মণিহার সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হলো বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যাকান্ড নিয়ে নির্মিত শর্ট ফিল্প ‘রুম নাম্বার ২০১১’
ছবি: প্রতিনিধি
টিআই তারেক: এশিয়ার বৃহৎ প্রেক্ষাগৃহ খ্যাত যশোর মণিহার সিনেমা হলের সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনা নিয়ে নির্মিত শর্টফিল্ম ‘রুম নাম্বার ২০১১’।
দেশের কোন সিনেপ্লেক্সে শর্টফিল্প প্রদর্শনের ঘটনা এটিই প্রথম বলে দাবি করলেন প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া নির্মাতারা। শুক্রবার বিকাল ৩টায় একটিমাত্র শো প্রদর্শনের কথা থাকলেও দর্শক সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ৪টায় দ্বিতীয় শো প্রদর্শন করা হয়।
মণিহার সিনেমা হলের সিনেপ্লেক্সে রুম নাম্বার ২০১১ শর্টফিল্পটি দেখতে আসেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ আজাহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহম্মেদসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়া উপস্থিত হন যশোরের সাংস্কৃতিক এবং মিডিয়া অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সিনেমাটি দেখে তারা দর্শকদের উদ্দেশ্যে তাদের অনুভ‚তি ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ আজাহারুল ইসলাম বলেন, আবরারের ঘটনাটি একটি সিম্বলিক হতে পারে বা সিনেমাটিক হতে পারে কিন্তু আওয়ামলীগ শাসনামলে সব ক্ষেত্রে এমনই চিত্র বিরাজমান ছিল। ২০০৯ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেকটি সরকারি অফিসে কাদের কাদের দাড়ি আছে, নামাজ পড়ে, মাথায় টুপি পরে, তাদের চিহ্নিত করা হতো। সেখান থেকে বাংলাদেশকে বিভক্তির দিকে নিয়ে গেছে।
সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্য তত্ত¡ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শেখ জিসান আহম্মেদ। প্রদর্শনী শেষে তিনি তার অনুভ‚তি ব্যক্ত করেন। এসময় তার সাথে শর্টফিল্পটি নির্মানের সাথে জড়িত সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, এক বছর আগে সিনোমটি নিয়ে কাজ শুরুর পরিকল্পনা হলেও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট বিপ্লব পরবর্তি সময়ে মুক্ত পরিবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক তরুন শিল্পী নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। দেশের প্রতি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা থেকেই এমন একটি গল্প তুলে ধরা বলে জানান নির্মাতা শেখ জিসান আহম্মেদ।
সিনেমাটিতে কুষ্টিয়ার সন্তান এবং বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে তার ক্যাম্পাসের হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা কিভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে, তার নির্মম চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সিনেমাটি দেখে দর্শকরা আবেগাপ্লুত হন। তারা তাদের অনুভ‚তি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন-দারুন ভাবে আবরার ফাহাদের ঘটনাটি চিত্রায়িত করা হয়েছে। মানুষ কেঁদে ফেলেছে সিনেমাটি দেখে। আমরা পত্রিকায় পড়েছিলাম, মুখে গল্প শুনেছিলাম কিন্তু সিনেমার মাধ্যমে দেখার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। এটা মানুষকে বেশি নাড়া দিয়েছে।