গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পথ ‘সহজ ছিল না’: বাইডেন
জো বাইডেন
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পথ সহজ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এটি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে কঠিন আলোচনার একটি ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন জো বাইডেন।
গাজায় ১৫ মাসের যুদ্ধ এবং হাজার হাজার প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর গতকাল যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় ইসরায়েল এবং হামাস, যা আগামী রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল-থানি।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় কয়েকমাস ধরে থেমে থেমে চলা আলোচনার পর চুক্তিটি হলো। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ জানুয়ারিতে শপথ নেওয়ার আগে ইসরায়েল-হামাসের চুক্তিতে পৌঁছায়।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর রাতে হোয়াইট হাউজে দেওয়া ভাষণে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘এই চুক্তি গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করবে, ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করবে এবং ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্দী থাকার পর জিম্মিদের সঙ্গে তাদের পরিবারের পুনর্মিলন ঘটাবে।’
বাইডেন আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ মে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছিলাম। উপস্থাপনের পর তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছিল।
বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি ও ইরান দুর্বল হওয়ার পরে হামাস যে ব্যাপক চাপে ছিল এবং আঞ্চলিক সমীকরণ যেভাবে বদলে গিয়েছিল, এই যুদ্ধবিরতি কেবল সেটারই ফলাফলই নয়। বরং আমেরিকার দৃঢ় ও কষ্টসাধ্য কূটনীতিরও ফলাফল। এটা সম্পন্ন করার জন্য তাদের (কূটনীতিকদের) প্রচেষ্টায় আমার কূটনীতি কখনো থেমে থাকেনি।
তিন ধাপে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হবে জানিয়ে জো বাইডেন বলেন, প্রথম ধাপ ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে। দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা এবং তৃতীয় ধাপে গাজার পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চলবে।