দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসনে রাশিয়ার ‘ড্রোন সন্ত্রাস’
ছবিঃ সংগৃহীত।
দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসনে রুশ ড্রোন আক্রমণে বেসামরিকদের ওপর চরম ত্রাস চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে ড্রোন হামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১৪৪ জন আহত হয়েছেন।
খেরসনের ডেপুটি মেয়র আন্তন ইয়েফানোভ বলেছেন, রুশ বাহিনী খেরসনে কেবল সন্ত্রাস চালাচ্ছে না, তারা বেসামরিকদের ওপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। রুশ সেনারা ড্রোনের মাধ্যমে বেসামরিক যানবাহন ও জনপরিবহন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
ডিসেম্বর ও নভেম্বর মাসে রুশ ড্রোন হামলা শহরের গভীরে প্রবেশ করেছে এবং সামাজিক ও গণপরিবহনের ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছে। এই সময়কালে, ড্রোন হামলার কারণে শহরের আঘাতের ৬০ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে, যা আগে ছিল মাত্র ৫ শতাংশ।
খেরসনের জনসংখ্যা যুদ্ধের আগে ছিল ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি। এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৮৩ হাজারে। যুদ্ধের কারণে শহরটিতে জন্মহার কমেছে। ডিসেম্বরে মাত্র ১৫ জন শিশু জন্ম নেয়, যেখানে ২৫৬ জন মারা যায় এবং ৩১১ জন শহর ছেড়ে চলে যান।
২২ বছর বয়সী মারিয়া তার নবজাতক সন্তান ইভানের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার পাঁচ বছরের মেয়ে বলে, ‘মা, দেখো, ড্রোন গুঞ্জন করছে।’ শিশুরাও এখন সব বুঝে। আমরা একধরনের বন্দি জীবন কাটাচ্ছি।
খেরসন শহরের অনেক অংশ এখন ভূতের নগরীর মতো। জনশূন্য রাস্তায় কদাচিৎ গাড়ি চলাচল করে। যেসব পেশাদার শহরে ফিরে এসেছেন, তাদের বেশিরভাগই মানবিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন।
পোলিশ সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এইডের কর্মী আলেক্সান্ডার দোরোফেইভ জানান, ড্রোনগুলো আমাদের অনুসরণ করে। শহরে ড্রোনের হাত থেকে পালানোর কোনও উপায় নেই।
খেরসনকে দখলের প্রচেষ্টা রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। তবে বর্তমানে ডিনিপ্রো নদীর দুই প্রান্তে ইউক্রেন ও রাশিয়ার বাহিনী অবস্থানগত যুদ্ধের মধ্যে আটকে রয়েছে।
ওডেসার ব্ল্যাক সি সেন্টারের এক বিশেষজ্ঞ ভলোদিমির মলচানোভ বলেছেন, খেরসন দখল করা রাশিয়ার জন্য এখন অবাস্তব। তারা বেসামরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, যাতে মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
খেরসনের পরিস্থিতি যুদ্ধ এবং মানবিক সংকটের মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরছে। শহরটি আবার তার পুরোনো চেহারায় ফিরবে কিনা, সেটি এখনও অনিশ্চিত।