দীর্ঘ চার বছর পর উত্তর কোরিয়া বিদেশি পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দিল
ছবিঃ সংগৃহিত।
চার বছরের বিরতির পর বিদেশি পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলেছে উত্তর কোরিয়া। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে দেশটি সীমান্ত বন্ধ করেছিল। তবে এবার সীমিত পরিসরে পর্যটকদের র্যাসন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানায়, অস্ট্রেলিয়ান ট্যুর ম্যানেজার রোয়ান বেয়ার্ড প্রথম পর্যটক দলের সদস্য হিসেবে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করেছেন। তার ট্যুর কোম্পানি ইয়াং পাইওনিয়ার ট্যুরস ও চীনা আরেকটি কোম্পানি র্যাসনে পর্যটকদের নিয়ে যাচ্ছে। সফরের অংশ হিসেবে তারা স্থানীয় বিয়ার পান, বিদেশি ভাষা স্কুল, তায়কোয়ান্দো একাডেমি এবং উত্তর কোরিয়া-চীন-রাশিয়া সীমান্ত সংযোগস্থল পরিদর্শন করেন।
২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ায় আসা পর্যটকদের ৯০ শতাংশ ছিলেন চীনা। বর্তমানে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ায় ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে চীনা পর্যটকদের র্যাসনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন উন্মুক্ত করলেও উত্তর কোরিয়ায় এখনো কিছু বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। বিদেশিদের স্থানীয় বাজারে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য মাস্ক পরিধান ও তাপমাত্রা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সাল থেকে নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়া পর্যটন চালু করে অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে চাইছে। অনুমান করা হচ্ছে, পর্যটন থেকে দেশটি বছরে প্রায় ১৭.৫ কোটি ডলার আয় করতে পারে। যদিও সমালোচকরা দাবি করছেন, এই অর্থ সামরিক কর্মসূচিতে ব্যয় হতে পারে। তবে রোয়ান বেয়ার্ড জানিয়েছেন, পর্যটন খাতের আয় মূলত স্থানীয় কর্মীদের বেতন ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়।
পর্যটন খাত চালু করে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের গবেষক ড. ইয়ি জি সান মনে করেন, এটি দেশটিকে ‘বিপজ্জনক রাষ্ট্র’ থেকে ‘নিরাপদ ভ্রমণ গন্তব্য’ হিসেবে উপস্থাপনের কৌশল হতে পারে।