আর্চারকে ‘কালো ট্যাক্সি’ বলে বিতর্কের মুখে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার

আর্চারকে ‘কালো ট্যাক্সি’ বলে বিতর্কের মুখে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার

ছবি: সংগৃহীত

আইপিএলের এবারের আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে গতকাল রাজস্থান রয়্যালসকে ৪৪ রানের ব্যবধানে পরাজিত করেছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। রবিবার হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সানরাইজার্স প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৮৬ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। জবাবে রাজস্থান রয়্যালস ৬ উইকেটে ২৪২ রানেই থেমে যায়। 

রাজস্থানের বিপক্ষে হায়দরাবাদের বিশাল সংগ্রহের এই ম্যাচে গতকাল ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন হায়দরাবাদের ইষাণ কিষাণ। তার ৪৭ বলে ১০৬* রানের ইনিংসের সুবাদেই প্রায় তিনশ ছোঁয়া সংগ্রহ পায় হায়দরাবাদের দল। এদিকে রাজস্থানের বোলার জোফরা আর্চার কাল এই ম্যাচেই করেছেন লজ্জার এক রেকর্ড। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। গতকাল ৪ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট না পেলেও তিনি দিয়েছেন ৭৬। 

এদিকে গতকাল ধারাভাষ্যের সময় আর্চারকে নিয়ে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিংয়ের করা একটি মন্তব্য ঘিরে বেশ বিতর্ক চলছে। প্রথম ইনিংসের পঞ্চম ওভারে প্রথম বোলিংয়ে আসেন আর্চার। সেই ওভারে তিনি দেন ২৩ রান। এরপর আবার ১১তম ওভারে বোলিংয়ে এসে তিনি কিছুটা ভালোই করেছেন, দিয়েছেন ১১ রান। এরপরের দুই ওভারে আবার খরুচে ছিলেন তিনি। নিজের করা তৃতীয় ওভারে ২২ এবং চতুর্থ ওভারে ২৩ রান দেন তিনি।

১৮তম ওভারে আর্চার যখন ঈশান কিষাণের বিপক্ষে বোলিং করছিলেন, তখন ধারাভাষ্যকার হরভজন সিং বলেন, “লন্ডনে কালো ট্যাক্সির মিটার দ্রুত চলে, আর এখানে আর্চার সাহেবের মিটারও দ্রুত চলেছে।” এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়, যা সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অনেকে এটিকে বর্ণবৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করেন। 

এখনও এই বিতর্ক নিয়ে হরভজন মুখ খোলেননি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও কিছু জানায়নি। তবে যদি রাজস্থান কোনও অভিযোগ করে বা বিতর্ক বাড়তে থাকে, সে ক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড হরভজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। ধারাভাষ্যকারদের তালিকা থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হতে পারে। হরভজনের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ নতুন নয়। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় সিডনি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হরভজন সাইমন্ডসকে ‘মাঙ্কি’ বা বাঁদর বলেছিলেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন হরভজন। তার পরেও তাঁকে শাস্তি পেতে হয়েছিল।