পরীক্ষায় সফলতা অর্জনের ৭টি বিশেষ আমল

পরীক্ষায় সফলতা অর্জনের ৭টি বিশেষ আমল

ছবিঃ সংগৃহীত

জীবনের প্রতিটি বাঁকেই আমাদের সম্মুখীন হতে হয় নানা পরীক্ষার। আর পরীক্ষা মানেই মনে এক ধরনের চাপা উদ্বেগ।

তবে গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, মহান আল্লাহ এই পৃথিবীতে আমাদের পাঠিয়েছেন মূলত একটি বৃহত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্যই। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের থাকতে হয় সদা প্রস্তুত। মনে রাখা প্রয়োজন, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা কোনো নতুন বিষয় নয়, বরং এটি নবিদেরও শিক্ষা। যিনি যত ভালোভাবে প্রস্তুতি নেবেন, পরীক্ষায় তার সাফল্যও তত নিশ্চিত।

পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য ইসলামে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বলা হয়েছে। আসুন, সেই বিশেষ আমলগুলো জেনে নিই,

১. কঠোর পরিশ্রম: সাফল্যের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো নিরলস পরিশ্রম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর সবার জন্যই তাদের কর্ম অনুসারে মর্যাদা রয়েছে। আর আল্লাহ যেন তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিতে পারেন। আর তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত: ১৯)। তাই পরীক্ষায় ভালো করতে হলে আন্তরিকভাবে অধ্যয়ন ও অনুশীলন করা অপরিহার্য।

২. আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করা : কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা জরুরি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক, আয়াত: ৩)। তবে এই ভরসা যেন কর্মবিমুখতা না হয়। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ উপকরণ ও চেষ্টার মাধ্যমেই ফল দান করেন।

৩. সালাতুল হাজতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা : পরীক্ষার আগে দুই রাকাত ‘সালাতুল হাজত’ নামাজ পড়ে এবং সুরা কালাম তিলাওয়াত করে মহান আল্লাহর সাহায্য চাওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন এই নামাজ পড়তেন (সুনানু আবি দাউদ, হাদিস : ১৩১৯)।

৪. স্থিরতা অবলম্বন করা : উত্তর লেখার সময় তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। তাড়াহুড়া মানুষকে ভুল পথে ধাবিত করে। ইসলামে ধীরস্থিরতাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাড়াহুড়াকে শয়তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ২০৭৬৭)। তাই শান্তভাবে প্রশ্ন বুঝে ধীরে ধীরে উত্তর লেখা উচিত।

৫. বিসমিল্লাহর বরকত : যেকোনো ভালো কাজ শুরুর আগে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত। তাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে নেওয়ার সময় এবং উত্তর লেখা শুরু করার পূর্বে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলা উচিত। এর সঙ্গে দরুদ শরিফ পাঠ করাও উত্তম। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহতায়ালা দশবার রহমত বর্ষণ করেন।

৬. জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া : পরীক্ষার হলে সঠিক উত্তর প্রদানের জন্য আল্লাহর সাহায্য চেয়ে মনে মনে দোয়া করা উচিত। আল্লাহ্তায়ালা তাঁর প্রিয় নবিকে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া শিখিয়েছেন, যার বাংলা উচ্চারণ রব্বি জিদনি ইলমা।

‘হে আমার পরওয়ারদিগার! আমাকে আরও জ্ঞান দাও।’ (সুরা ত্বহা: ১১৪)। তাই এই দোয়া বেশি বেশি পাঠ করা।

৭. ভুলে যাওয়া উত্তর স্মরণ করার দোয়া : অনেক সময় ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার পরও পরীক্ষার হলে কিছু উত্তর মনে আসতে চায় না। এমন পরিস্থিতিতে এই দোয়া পড়া: ‘রব্বিশরাহলি সদরি, ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল উকদাতাম মিল্লিসানি, ইয়াফকহু কওলি।’ (সুরা ত্বহা: ২৫-২৮)। 

আল্লাহতায়ালা আমাদের সব পরীক্ষার্থী ভাই-বোনকে উপরোক্ত আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন এবং পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সফলতা দান করুন। আমিন।

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক