সালাতুত তাসবিহ কী ও কেন পড়বেন

সালাতুত তাসবিহ কী ও কেন পড়বেন

ছবি: সংগৃহীত

সালাতুত তাসবিহ ইসলামের একটি বিশেষ নফল নামাজ, যাতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহ বারবার পাঠ করা হয়। নবীজি (স.) তাঁর চাচা হজরত আব্বাস (রা.)-কে বলেছিলেন- ‘এই নামাজ পড়লে আল্লাহ আপনার সব গুনাহ ক্ষমা করবেন- পুরনো-নতুন, ছোট-বড়, ইচ্ছাকৃত-অনিচ্ছাকৃত সব!’ (আবু দাউদ: ১২৯৭)

নামাজের পদ্ধতি-

এই নামাজ ৪ রাকাত। প্রতি রাকাতে ৭৫ বার করে মোট ৩০০ বার তাসবিহ পাঠ করতে হয়। তাসবিহ পাঠের বিন্যাস নিম্নরূপ-

  • সানা পাঠের পর দাঁড়িয়ে ১৫ বার
  • সুরা ফাতেহা ও সুরা মেলানোর পর (রুকুর আগে) ১০ বার
  • রুকু অবস্থায় ১০ বার
  • রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ১০ বার
  • প্রথম সেজদায় ১০ বার
  • সেজদার মাঝে বসা অবস্থায় ১০ বার
  • দ্বিতীয় সেজদায় ১০ বার

এভাবে প্রতি রাকাতে ৭৫ বার × ৪ রাকাত = ৩০০ বার

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

  • ভুলে গেলে পরবর্তী রাকাতে সংখ্যা পূরণ করুন
  • আঙুলে গণনা না করে মনে মনে গণনা করুন অথবা আঙুল চেপে স্মরণ রাখা যেতে পারে
  • সাহু সেজদার সময় তাসবিহ পড়ার প্রয়োজন নেই

সময় ও ফজিলত

  • উত্তম সময়: তাহাজ্জুদের পর
  • নিষিদ্ধ সময়: সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দুপুরে
  • ফজিলত: ‘গুনাহ বেশি হলেও মাফ হয়।’ (তিরমিজি: ৪৮১)

কতবার পড়বেন

নবীজি (স.)-এর সুপারিশ অনুযায়ী-

  • প্রতিদিন (সর্বোত্তম)
  • প্রতি জুমা
  • প্রতি মাসে
  • বছরে একবার
  • জীবনে অন্তত একবার (সর্বনিম্ন)

দলিল-প্রমাণ

  • ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদিস (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৭)
  • ইমাম তিরমিজির বর্ণনা- ‘যে ব্যক্তি এ নামাজে অবহেলা করে, সে নিজের কল্যাণে অবহেলা করে।’
  • ফিকহে হানাফি: প্রতি মাসের ১৩-১৪-১৫ তারিখে পড়া বিশেষ সওয়াবের কাজ

মনোযোগ বৃদ্ধির উপায়

  • নামাজের আগে ২ রাকাত সুন্নত পড়ুন
  • কেবলার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন
  • ধীরে ধীরে তাসবিহ পাঠ করুন

সতর্কতা

  • মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা জরুরি নয়
  • তাসবিহ ভুলে গেলে নামাজ ভাঙবে না
  • জামাতে পড়ার প্রয়োজন নেই
  • ফজিলতের হাদিসগুলোর সনদ দুর্বল হলেও আমলযোগ্য।

মাজহাবভেদে অবস্থান

  • হানাফি ও শাফেয়ি: এই নামাজ মোস্তাহাব (প্রশংসনীয়)
  • অন্যান্য মাজহাব: নামাজটি পড়া যায় তবে নির্দিষ্ট ফজিলতের দাবি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত

বিশেষ নোট

সালাতুত তাসবিহ সম্পর্কিত হাদিসগুলোর সনদগত মান কিছুটা দুর্বল হলেও ফিকহবিদদের দৃষ্টিতে এ নামাজ একটি সুন্দর ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হিসেবে স্বীকৃত। সুনানে আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্য হাদিসগ্রন্থে এর বিবরণ পাওয়া যায়। তাই একে অবহেলা না করে জীবনে অন্তত একবার হলেও পড়ার চেষ্টা করা উচিত।