চাঁদা না দেওয়ায় কৃষি মার্কেটের দোকানে তালা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ
সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে নতুন করে গড়ে তোলা ভবনের ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ করে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনে দোকান বন্ধ করে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ব্যবসায়ীদের কমিটি বহিরাগত কয়েকজন এসে দখল করে নেয়। এরপর থেকে পুড়ে যাওয়া নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলা অবৈধভাবে গড়ে তুলে তা চড়া দামে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দোকান নির্মান করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তা বুঝিয়ে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এরপর থেকে ব্যবসায়ীরা নতুন ভবনে দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেছেন।
গত কয়েকদিন যাবৎ ৫ আগস্টের পরে দখল করা কমিটির লোকজন ব্যবসায়ীদের কাছে বিভিন্নভাবে চাঁদা চাইছিলো। গতকাল থেকে চাঁদার জন্য ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দেয়। আজকে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুরো কৃষি মার্কেট জুড়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির মতো ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পুরো কৃষি মার্কেট জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। থমথমে পরিস্থিতিতে বেলা ২টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
কৃষি মার্কেটের ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহ বলেন, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটটিতে তিন ব্লক মিলিয়ে মোট ৪২৭টা দোকান রয়েছে। এর মধ্যে রানিং দোকান আছে ৩০০ এর মতো। তারা (চাঁদাবাজ) প্রতি দিন প্রতি দোকান থেকে ৭০/৮০ টাকা চাঁদা চায়। এখন নতুন করে আবার অবৈধভাবে বিদ্যুৎ বিল চাইতেছে। বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এখন মার্কেট সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। বাজারের নামধারী সেক্রেটারি-সভাপতি বহিরাগতদের নিয়ে মার্কেটে আক্রমণ চালিয়ে মার্কেটের সমস্ত দোকান বন্ধ করতে বলেছে। ব্যবসায়ীরা মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। এটার একটা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যার শেষ হবে না। ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ নিয়ে দাঁড়ানোর পর প্রশাসনের লোক এসেছে। প্রশাসন দুই পক্ষকে থানায় গিয়ে বসার জন্য বলেছে। আমাদের বাহিরগতদের সাথে বসার কোন প্রশ্নই আসে না। চাঁন্দাবাজ-ধান্দাবাজদের সাথে কেন ব্যাবসায়ীরা বসবে।
আরেক ব্যবসায়ী বেলাল মিয়া বলেন, যারা ৫ আগস্টের পর বাজার কমিটি দখল করেছে, তারা সবাই নামধারী বিএনপি। এদের মূল টার্গেট হলো কৃষি মার্কেটকে ঘিরে চাঁদাবাজি করা। যারা এ বাজার কমিটি দখল করেছে, এদের মধ্যে অনেকের এ বাজারে দোকান নেই। এরা দোকান মালিক না। আমরা এদের চাঁদাবাজিসহ সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে আজকে মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়েছি। এটার একটা সুরাহা হতেই হবে। না হলে এ চাঁদাবাজ চক্র আরো বেড়ে যাবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী ইফতেখার জানান, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে আমাদের একাধিক টিম পাঠিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কাছে কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। আর সন্ধ্যায় তাদের থানায় ডেকেছি। দু পক্ষের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।