পূজার নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ডাকসু নেতাদের সাক্ষাৎ
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশব্যাপী সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পৌনে ৩টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডাকসুর প্রতিনিধিরা।
সাক্ষাৎকালে ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।
ভিপি আবু সাদিক সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দেশ, ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এ সম্প্রীতি গড়ে উঠেছে। জুলাই বিপ্লবের পর বিশ্ব দরবারে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে এই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আবারও বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, গতকাল ডাকসুর পক্ষ থেকে জগন্নাথ হলের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করা হয় এবং সেখানে জগন্নাথ হলের প্রতিনিধি, হল সংসদ ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। ঢাবির নিকটস্থ শিব মন্দির ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিনিধি দল ডাকসুর কাছে এসে কিছু কনসার্ন তুলে ধরেন এবং দাওয়াত দেন। সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যেসকল বিষয় আমাদেরকে তারা জানিয়েছেন সেগুলো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে।
এস এম ফরহাদ বলেন, ঢাবিতে ঘটে যাওয়া অন্যতম গুরুতর দুটি হত্যাকাণ্ড হলো তোফাজল হত্যাকাণ্ড ও সাম্য হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন যে খুব শিগগিরই সাম্য হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তথ্য ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ ও অতিদ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সভায় তারা নিরাপদ ও সফলভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি, গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানান। পাশাপাশি, যেসব জেলা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে সেসব জেলায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার অনুরোধ জানায়। কয়েকটি স্থানে পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ও দাবি জানানো হয়।