বিপদ উপেক্ষা করে গাজায় পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানবিক নৌবহর

বিপদ উপেক্ষা করে গাজায় পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানবিক নৌবহর

বিপদ উপেক্ষা করে গাজায় পৌঁছাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানবিক নৌবহর। ছবিঃ সংগৃহিত।

গাজায় অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ মানবিক নৌবহরে থাকা কর্মীরা মঙ্গলবার থেকে বুধবার রাতের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে তারা জানিয়েছেন মিশন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জেইনেল আবিদিন ওজকান নামের একজন নৌবহর থেকে সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে ফোনে জানান, তিনি ‘আদাজিও’ নামের জাহাজের ডেকে আছেন—যা নৌবহরের অংশ হয়ে গাজার দিকে এগোচ্ছে।

ওজকান বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই তারা গাজার উপকূলের এত কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন যে ইসরায়েলি সেনারা তাদের আক্রমণ বা মানবিক মিশনে বাধা দিতে পারে। গত রাতে আমাদের বহরের ওপরে ঘন ঘন ড্রোন ওড়ানো হচ্ছিল।

তিনি বলেন, ‘ভোর ৫টার দিকে দুটি নৌকা এসে আমাদের বহরের মূল জাহাজগুলোর একটি আলমাএর জিপিএস ও ইন্টারনেট ডেটাবেজে সাইবার আক্রমণ চালায়, ফলে আমাদের সঙ্গে সেই জাহাজের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’

তিনি উল্লেখ করেন, ৪৩টি জাহাজের বহর সম্ভাব্য ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য ইঞ্জিন বন্ধ করেছিল, পরে আবার যাত্রা শুরু করে।

ওজকান জোর দিয়ে বলেন, গাজা অবরোধ দৃঢ়ভাবে ভাঙতে এবং গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধ করার পাশাপাশি বিশ্ববাসীর সমর্থনের আহ্বান জানাতে এই মিশন চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বুধবার ভোর থেকে তারা আরও ‘বিপজ্জনক সময়ে’ প্রবেশ করেছেন, কারণ তারা এখন গাজার মাত্র ১৬১ কিমি দূরে। এখান থেকে গাজায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টারও কম সময় লাগবে।

তিনি আহ্বান জানান, সম্ভাব্য আক্রমণ ও হয়রানির মুখে বহরকে একা ছেড়ে দেবেন না, এই আন্দোলনের অংশ হোন যা দৃঢ়ভাবে গাজায় সংঘটিত গণহত্যা থামাতে পারে এবং অবরোধ ভাঙতে পারে।

তবে মানবিক নৌবহরের ফ্ল্যাগশিপ জাহাজ আলমাতে থাকা কর্মী মেতেহান সারি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তারা ইসরায়েলি হয়রানির শিকার হয়েছেন, কিন্তু যাত্রা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সারি আনাদোলুকে বলেন, তারা একটি ইসরায়েলি জাহাজের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন। তিনি বলেন, এটি এখন পর্যন্ত আমাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে বড় হয়রানির একটি। তারা আমাদের ভয় দেখাতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা ভয় পাইনি। আমরা তাদের জানিয়েছি আমরা ভয় পাব না।

গাজার উদ্দেশ্যে তাদের অটল প্রতিশ্রুতি জানিয়ে সারি বলেন, ‘(হয়রানির সময়) তারা একটি বড় সামরিক সিগন্যাল জ্যামার ব্যবহার করে। এটি সাধারণ জ্যামার ছিল না, কারণ আমাদের কয়েকটি ক্যামেরা পুড়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, কিছু অংশগ্রহণকারীর ডিভাইসে হ্যাকিং করা হয়েছিল, ফলে কয়েকজনকে ফোন সমুদ্রে ফেলে দিতে বাধ্য হয়। ‘আমরা আমাদেরটা ফেলিনি, যাতে পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারি,’ তিনি বলেন।