ঘূর্ণিঝড়ে তিন জেলায় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত
সংগ্রহীত ছবি
লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুরে গতকাল রবিবার ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে ৭৮ জন। প্রতিনিধিদের তথ্যে বিস্তারিত-
লালমনিরহাট : কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের দুটি গ্রামে ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে যায়।
আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বাস করছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন জানান, দুই গ্রামের ৫০ পরিবারের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিক ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দের পাশাপাশি নগদ সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
নীলফামারী ও কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ে ১০ গ্রামের ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের চালা ও গাছের ডালে চাপা পড়ে নারী-শিশুসহ আহত হয়েছে অন্তত ৭০ জন। আহতদের মধ্যে একজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও পাঁচজনকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ৬০ জনকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা বলেন, এক থেকে দেড় মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে ও তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্প কাজ করছে।
রংপুর : গঙ্গাচড়া উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে পাঁচটি ইউনিয়ন।
ঝড়ের তাণ্ডবে ১২ শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত পাঁচজন। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষেতের ফসলও।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব জানানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের তাত্ক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।