ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ঘাঁটেন? জানুন কী ক্ষতি করছেন নিজের!
ছবি: সংগৃহীত
ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে কোন কাজটি করেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বেশিরভাগ মানুষ বলবেন, মোবাইলে ঢুঁ মারি। অধিকাংশ মানুষেরই এই অভ্যাস রয়েছে। সকালে ঘুম চোখে হাতে তুলে নেন স্মার্টফোন। নেট অন করে চোখ বোলান ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে। কোনোভাবে যদি রিলস দেখা শুরু করেন তাহলে কখন যে অনেকটা সময় কেটে যায় তা বুঝতেই পারেন না। আবার ফেসবুকে কে কী লিখল সেসব নিয়েও থাকে কৌতূহল। ফলাফল— চোখে এসে পড়ে মোবাইল ফোনের নীল রশ্মি। আর এর প্রভাব যে কতটা মারাত্মক হতে পারে তা জানেন না বেশিরভাগ মানুষই।
কেবল চোখ নয়, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস শরীর ও মনে বিস্তর প্রভাব ফেলে। জেনে নিন রোজকার এ অভ্যাসে নিজের কী ক্ষতি করছেন-
মানসিক চাপ বৃদ্ধি
এই অভ্যাসে মানসিক চাপ বেড়ে যায় মারাত্মকভাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগত আসতে থাকা ছবি, ভিডিও কিংবা ব্যক্তিগত পোস্ট ধারাবাহিকভাবে মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে বেড়ে যায় ‘স্ট্রেস হরমোন’ এর ক্ষরণ। শরীরের পাশাপাশি দেখা দেয় মানসিক ক্লান্তি।
কাজে অমনোযোগিতা
সকাল সকাল মোবাইলে ব্যস্ত থাকলে পুরো দিনের সব কাজেই ব্যাঘাত ঘটবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মনোযোগ একদম কমে যাবে। এরপর যখন কর্মস্থলে যাবেন তখন কাজে উৎসাহও কমবে। আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনা হয়। এগুলো মস্তিষ্কে এতই প্রভাব ফেলে যে মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যায় বহুগুণ। তাই সকালে মোবাইলে সময় কাটালে পরবর্তীতে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবেন না। কাজের একাগ্রতাও কমবে এ অভ্যাসে।
চোখের ক্ষতি
চোখের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে এই অভ্যাসে। বর্তমানে অসংখ্য মানুষ ভুগছেন ‘ড্রাই আইজ’ সমস্যায়। চোখের শুষ্কতার এই সমস্যায় মূল কারণ মোবাইল ফোন থেকে নির্গত ক্ষতিকর রশ্মি। চোখের ভালো চাইলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় কমানোর বিকল্প নেই।
বাস্তব জগতের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্নতা
চোখ মেলেই সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলের কারণে বাড়ে মনের অস্থিরতা। এই বিষয়ে মনোবিদের মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমের নেশাকে ‘আচরণগত আসক্তি’ বলা হয়। দেখা গেছে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটান তারা নিজের আশেপাশের সম্পর্কগুলোকে তেমন একটা গুরুত্ব দিতে চান না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। বিশেষত টিনেজারদের মধ্যে। ভার্চুয়াল জগতে বন্ধুদের দামি বাড়ি-গাড়ি, সাজানোর ঘর কিংবা দামি রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার ছবি দেখে মনে ঈর্ষা জাগে, সৃষ্টি হয় স্নায়ুজনিত উত্তেজনা।
ঘুমের ব্যাঘাত
স্মার্টফোন ব্যবহার করলে ফোনের নীল আলো মস্তিষ্কে ‘মেলাটোনিন’ নামক হরমোনের নিঃসরণে বাধা দেয়। ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে এই হরমোন। তাই বেশি মোবাইল ঘাঁটলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং এর কারণে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা এতটাই বেড়ে যায় যে, অনিদ্রাজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সবমিলিয়ে বলা যায়, মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে চাইলে সকালের রুটিনে বদল আনতে হবে সবার আগে। যে সময় সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলের পেছনে ব্যয় করছেন, সে সময় অন্য কোনো কাজে লাগাতে পারেন। যোগব্যায়াম করতে পারেন কিংবা হালকা সুরের গান শুনতে পারেন। এগুলো মন শান্ত রাখে, মনোযোগ বাড়ায়।