ঘি তৈরির সময় পান পাতা দিলে কী হয়?

ঘি তৈরির সময় পান পাতা দিলে কী হয়?

ছবি: সংগৃহীত

বাঙালির রান্নাঘরে থাকা অপরিহার্য একটি উপাদান ঘি। কেবল পোলাও-বিরিয়ানি বা মিষ্টি-হালুয়া বানানোর জন্য নয়, গরম ভাতের সঙ্গে এমনি ঘি মেখে খেলেও দারুণ লাগে। স্বাস্থ্যের জন্যও এটি ভীষণ উপকারি। তবে তার জন্য খাঁটি ঘি খেতে হবে। ভেজাল এড়াতে অনেকেই তাই ঘরেই ঘি বানান। 

ঘি তৈরির ক্ষেত্রে একটি প্রাচীন প্রথা বা টোটকা মানা হয়। গরম ঘি তে কয়েকটি পান পান দেওয়া হয়। কিন্তু কেন? এটি নিছক কোনো রন্ধনপ্রণালি নয়। এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও লৌকিক কারণ। 

কেন ঘি তৈরির সময় পান পাতা ব্যবহার করা হয়? চলুন জানা যাক- 

১. বিশুদ্ধতা ও দুর্গন্ধ দূর করা: 

মাখন থেকে ঘি তৈরির সময় অনেকসময় পোড়া বা ঝাঁঝালো গন্ধ বের হতে পারে। অন্যদিকে পান পাতার একটি নিজস্ব একটি কড়া কিন্তু মিষ্টি সুবাস আছে। তাই ঘি তে পান পাতা দেওয়া হলে ঘিয়ের অপ্রীতিকর গন্ধ দূর হয়ে যায়। সুন্দর সুগন্ধ বের হয়। 

২. দীর্ঘস্থায়িত্ব: 

পান পাতার মধ্যে কিছু প্রাকৃতিক অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে। ঘি তৈরির একদম শেষ পর্যায়ে এই পাতা যোগ করলে ঘিয়ের শেল্ফ লাইফ বাড়ে। পান পাতায় থাকা উপাদানগুলো ঘি-কে দীর্ঘদিন ধরে টাটকা ও ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৩. ফেনা কমানো: 

মাখন গরম করার সময় যে ফেনা বা 'froth' সৃষ্টি হয়, তা কমাতেও পান পাতা সাহায্য করে। যখন মাখন সম্পূর্ণভাবে গলে ঘি-তে পরিণত হয়, তখন এই পাতাগুলো মিশে ফেনার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এতে ঘি সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সহজ হয়। 

সব মিলিয়ে, ঘি তৈরির সময় পান পাতার ব্যবহার কেবল স্বাদের জন্য নয়, বরং ঘিয়ের গুণগত মান, সুগন্ধ ও দীর্ঘস্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য  অত্যন্ত কার্যকর প্রাচীন পদ্ধতি।