গাজীপুরের শ্রীপুর ও সাভারে বেতন দাবিতে শ্রমিকদের অবরোধ-বিক্ষোভ

গাজীপুরের শ্রীপুর ও সাভারে বেতন দাবিতে শ্রমিকদের অবরোধ-বিক্ষোভ

সংগ্রহীত ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরের নগরহাওলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দফায় দফায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সুতা উৎপাদনকারী কারখানার শ্রমিকরা। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরাতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া গত রাতে সাভারের জিঞ্জিরায় বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন তিতাস নিটওয়্যার লিমিটেডের তিন শতাধিক শ্রমিক।

গাজীপুরের শ্রীপুরের নগরহাওলায় গতকাল সকাল ১০টা থেকে উপজেলার নগরহাওলায় এএ ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করে এই কর্মসূচি পালন করেন।

পরে বিকেল ৩টায় শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে কমপক্ষে ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের একজনকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার বেসরকারি হাসপাতালে এবং আরেকজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে শ্রীপুর থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছোড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। এতে কেউ আহত হননি।’

সাভারে বিক্ষোভ, কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ : সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, সাভারের জিঞ্জিরায় বকেয়া বেতনের দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন তিতাস নিটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা।

গত রাতে কারখানার তিন শতাধিক শ্রমিক এই বিক্ষোভে অংশ নেন। শ্রমিকেরা জানান, তিন মাস ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষ বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য সময় দিলেও তারা তা পরিশোধ করেনি। গতকাল বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বেতন না দিয়ে টালবাহানা করে। কারখানার শ্রমিক মো. মাসুদ ওমর বলেন, তিন মাস ধরে শ্রমিকরা কাজ করেও বেতন পাচ্ছেন না। বারবার শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের সময় দিয়েও বেতন পরিশোধ করা হয়নি।

উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানার মালিক ও বায়ারদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। কারখানার মালিক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যে বায়ারের প্রোডাক্ট বানিয়েছি তারা আমাদের ফলস স্লিপ দেওয়ায় সেটা রিজেক্ট হয়েছে। বায়ার আজ টাকা দিয়ে মাল নিয়ে যাওয়ার কথা বলায় আমরা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা টাকা না দেওয়ায় আমরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছি না।’