দুধ আর মাছ একসঙ্গে খেলে কি শ্বেতী রোগ হয়?
ছবি: সংগৃহীত
দুধ আর মাছ একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়— এমন কথা হয়তো অনেকবার শুনেছেন আপনি। ভারতীয় উপমহাদেশে (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান) বহু বছর ধরে এই ধারণা প্রচলিত। ফিশ চাউডার, বাটার ফিশ কারি, দই কাতলার মতো অনেক রেসিপিতেই দুধ আর মাছ একসঙ্গে রান্না করা হয়। অনেকে মনে করেন, একসঙ্গে দুধ আর মাছ খেলে শ্বেতী রোগ (ত্বকে সাদ দাগ) হয়। আসলেই কি তাই? প্রচলিত এই ধারণা সম্পর্কে বিজ্ঞান কী বলছে? চলুন জানা যাক-
প্রচলিত বিশ্বাস কী?
বহু মানুষ এখনো বিশ্বাস করেন যে দুধ আর মাছ একসঙ্গে খেলে ত্বকে সাদা দাগ (ভিটিলিগো বা শ্বেতী) হয়। সম্ভবত আয়ুর্বেদিক রীতিনীতি বা লোককথার উপর ভিত্তি করে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। কারণ আয়ুর্বেদে দুধের সঙ্গে কিছু আমিষ খাবারকে 'বিপজ্জনক সংমিশ্রণ' হিসেবে দেখা হয়।
বিজ্ঞান যা বলছে
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং ডায়েটেটিক্স (Dietetics) বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধ ও মাছ একসঙ্গে খাওয়ার ফলে ত্বকে সাদা দাগ বা শ্বেতী রোগ হয়—এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
মূলত শ্বেতী একটি অটোইমিউন রোগ। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ত্রুটির কারণে হয়। এর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাহলে দুধ আর মাছ একসঙ্গে খেলে কী হয়?
ফুড পয়জনিং:
এই দুটো খাবার একসঙ্গে খেলে ফুড পয়জনিং বা পেটের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে তার কারণ দুধ ও মাছের সংমিশ্রণ নয়, বরং দুটির মধ্যে যেকোনো একটি বা উভয়টি খারাপভাবে সংরক্ষিত থাকলে। আবার সঠিকভাবে রান্না না হলেও এটি ফুড পয়জনিং এর কারণ হতে পারে।
হজমের সমস্যা:
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুধ ও মাছ একসঙ্গে খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। এর মূল কারণ-
প্রোটিন ও ফ্যাটের পার্থক্য: মাছ ও দুধ উভয়ই প্রোটিন ও ফ্যাটের ভালো উৎস। এই দুটো ভিন্ন ধরনের প্রোটিন ও ফ্যাট একসঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হতে পারে। যাদের পাকস্থলী সংবেদনশীল, তাদেরও সমস্যা হতে পারে।
ল্যাক্টোজ অসহিষ্ণুতা: যারা ল্যাক্টোজ সহ্য করতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে মাছ আর দুধ একসঙ্গে খেলে সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
দুধ ও মাছের সংমিশ্রণ ক্ষতিকারক নয়, যদি উভয় খাবারই টাটকা এবং ভালোভাবে রান্না করা হয়। তবে হজমে সংবেদনশীল হলে দুটো উপাদান একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো।