জাদু-টোনার ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া
ফাইল ছবি।
জাদু হচ্ছে শয়তানি কাজ। কিছু মানুষ নিজেদের হীনস্বার্থ, হিংসা কিংবা প্রতিশোধের কারণে এই শয়তানি কাজ বেছে নেয়। এর মাধ্যমে তারা অন্যের ক্ষতি করতে চায়। জাদুর মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করা, অসুস্থ করে তোলা কিংবা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে। যুগে যুগে শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ এ অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে।
আবার জাদুর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার দিকনির্দেশনাও দিয়েছে ইসলাম। কোরআনের নির্দিষ্ট আয়াত ও হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠ করলে জাদুর ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও অসুস্থ সাহাবিদের ওপর ঝাড়ফুঁক করতেন, তাদের জন্য বিশেষ দোয়া করতেন। একদা রাসুল (সা.)-এর ওপরও জনৈক ইহুদি জাদু করেছিল। তখন সুরা নাস, ফালাকসহ বিভিন্ন দোয়ার মাধ্যমে জাদু থেকে মুক্ত হন। সেসব দোয়ায় আল্লাহর কাছে সরাসরি আশ্রয় ও আরোগ্য প্রার্থনা করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, জাদুর প্রভাব থাকলেও সেটার প্রতিকার আল্লাহর ইচ্ছাতেই সম্ভব।
আধুনিক সমাজেও জাদুর ভয়াবহ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। কেউ কারও উন্নতি বা সুখ সহ্য করতে না পেরে গোপনে জাদুর আশ্রয় নেয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় ভোগে, জীবনের ভারসাম্য হারায়। জাদুর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোরআন ও হাদিস থেকে বেশ কিছু দোয়া উল্লেখ করা হলো। হজরত জিবরাইল (আ.) হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে একটি দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন, দোয়াটি হচ্ছে ‘বিসমিল্লাহি আরকিক মিন কুল্লি শাইয়িন উজিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন, আল্লাহ ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরকিক।’ অর্থাৎ আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি, কষ্টদায়ক বিষয় থেকে, প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। (সহিহ মুসলিম)
জাদু থেকে মুক্তি পেতে হলে আয়াতুল কুরসি অথবা সুরা আরাফ, সুরা ইউনুস ও সুরা তাহার জাদুবিষয়ক আয়াতের সঙ্গে সুরা কাফিরুন, সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে জাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর ও পাত্রে পানি রেখে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেই পানি পান বা গোসল করালে ইনশাআল্লাহ রোগী সুস্থ হয়ে যাবে।
এ ছাড়া নিম্নবর্ণিত দোয়াটি পাঠ করে ঝাড়ফুঁক করা যেতে পারে। হজরত আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিম্ন উল্লিখিত দোয়াটি পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝাড়ফুঁক করতেন ‘আল্লাহুম্মা রাব্বান নাসি উজহিবাল বাসি, ইশফিহি ওয়া আনতাশ-শাফি, লা শিফায়া ইল্লা শিফায়ুকা শিফায়ান লা ইউগাদিরু সাকমা।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! মানুষের প্রতিপালক, কষ্ট দূরকারী, আমাকে আরোগ্য দিন, আপনি আরোগ্যকারী, আপনি ছাড়া কোনো আরোগ্যকারী নেই। এমন আরোগ্য দিন যেন কোনো রোগ না থাকে। (সহিহ বুখারি)
এ দোয়াটি পাঠ করার মাধ্যমেও জাদু ও বিভিন্ন ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। দোয়াটি হলো, ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়তানিন, ওয়া হাম্মাতিন, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমার দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি।
জাদু করা বা জড়িয়ে যাওয়া এবং আস্থা রাখা ব্যক্তিদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণির মানুষ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। তারা হলো মদ্যপায়ী, রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা ছিন্নকারী ও জাদুর প্রতি আস্থা স্থাপনকারী।’ (মুসনাদে আহমাদ)
লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও প্রবন্ধকার