জকসু নির্বাচনে ৩৪ পদের বিপরীতে মনোনয়ন সংগ্রহ ৩১২

জকসু নির্বাচনে ৩৪ পদের বিপরীতে মনোনয়ন সংগ্রহ ৩১২

সংগ্রহীত ছবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ২১ পদে ২৬৭ জন এবং হল শিক্ষার্থী সংসদের ১৩ পদে ৪৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিন দিনে কেন্দ্রীয় ও হল মিলিয়ে ৩৪ পদের বিপরীতে মোট ৩১২ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

সোমবার রাতে জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো আমাদের সহযোগিতা করছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। উন্মুক্ত লাইব্রেরির শিক্ষার্থীরা মিছিল করে লাইব্রেরি খোলার দাবি জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছি।

শেষ দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শহিদ সাজিদ ভবনের নিচে জকসুর অস্থায়ী নির্বাচন অফিস থেকে ২৩৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। প্রথম দিনে ৪ এবং দ্বিতীয় দিনে ২৭ জন ফরম নেন। তফসিল অনুযায়ী, শেষ দিনে প্রার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম সংগ্রহ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

প্রথম দুই দিনে কেউ ফরম সংগ্রহ না করলেও ছাত্রীদের আবাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে শেষ দিনে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৪৫টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল ১৩ পদের বিপরীতে ১৩টি, স্বতন্ত্র প্যানেলও ১৩টি এবং বামধারার ‘চিন্তক’ প্ল্যাটফর্ম ৮টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।

এদিন জবি ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ মিলে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ নামে সমন্বিত প্যানেল ঘোষণা করে। প্যানেলে ভিপি প্রার্থী করা হয়েছে একে এম রাকিবকে, জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা এবং এজিএস প্রার্থী করা হয়েছে বিএম আতিকুর রহমানকে তানজিল।

অন্যদিকে ৯টি রাজনৈতিক–সামাজিক–সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমন্বয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ‘মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ নামে আরেকটি প্যানেল ঘোষণা করেছে। এখানে ভিপি প্রার্থী গৌরব ভৌমিক, জিএস প্রার্থী ইভান তাহসীব এবং এজিএস প্রার্থী শামসুল আলম মারুফ। জকসুতে সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ ছাড়া বাকি ২১ পদে এবং হলে ১৩ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ৫ নভেম্বর জকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১৭–১৮ নভেম্বর মনোনয়ন দাখিল, ১৯–২০ নভেম্বর বাছাই, ২৩ নভেম্বর প্রাথমিক তালিকা, ২৪–২৬ নভেম্বর আপত্তি গ্রহণ, ২৭ ও ৩০ নভেম্বর ডোপ টেস্ট, ৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত তালিকা, ৪, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহার, ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহারকারীদের তালিকা, ২২ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে।