হেমার জন্য মুসলমান হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র
ছবি: সংগৃহীত
ধর্মেন্দ্র এবং হেমা মালিনীর সম্পর্ক নিয়ে এখনও অনুরাগীদের মধ্যে চর্চার স্রোত বহমান। একসঙ্গে একাধিক ছবি থেকে শুরু করে তাদের ভালবাসা ইন্ডাস্ট্রিতে সুখী দাম্পত্যের উদাহরণ হিসাবে রয়ে গিয়েছে। প্রায় ৪৪ বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক। দুই সন্তান রয়েছে তাদের। যদিও হেমার সঙ্গে বিয়ের আগে বিবাহিত ছিলেন ধর্মেন্দ্র। হেমার প্রেমে এমনই হাবুডাবু খেলেন যে, শেষমেশ সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে ধর্মেন্দ্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হেমাকে বিয়ে করেন।
যদিও অনেকেই হেমা-ধর্মেন্দ্রের সম্পর্কের সঙ্গে প্রবল নারীবাদের যোগ খুঁজে পান। হেমার কথায়, “দেখুন এ ভাবে কেউ থাকতে চায় না। কিন্তু যা কিছুই হয়েছে খুবই স্বাভাবিক ভাবে হয়েছে। যা কিছু হয়েছে আমি ভাল মনে গ্রহণ করেছি। যে কোনও নারী স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার করতে চাইবে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা প্রথম থেকেই এ ভাবেই হয়েছে।’’
যখন হেমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়, সেই সময় প্রকাশ কৌরের সঙ্গে বিবাহিত ধর্মেন্দ্র। সেই সময় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনত বিচ্ছেদ না ঘটিয়েই হেমাকে বিয়ে করেন অভিনেতা। তাদের সম্পর্ক মানতে চাননি হেমা মালিনীর পরিবার। ঠিক একই ভাবে আপত্তি জানান অভিনেতার প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানেরা। কিন্তু সময় যে বহমান! তার নিয়মে বদলে যায় পরিস্থিতি। অভিনেতার প্রথম পক্ষের পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক হয় সম্পর্ক। এখন সানি-ববি-এষা-অহনারা একসঙ্গে রাখি থেকে নানা পারিবারিক উৎসব উদ্যাপন করেন। যদিও হেমা বলেন, ‘‘আমি কোনও কিছু ধরে বসে থাকি না। সেটা নিয়ে দুঃখ করি না। আমি আমার দুই সন্তান ও নিজেকে নিয়ে খুশি।’’
১৯৮১ সালে স্টারডাস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্রর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর বলেন, ‘কেবল আমার স্বামী কেন? যেকোনো পুরুষই হেমাকে পছন্দ করতেন। আমার স্বামীকে নারী প্রেমিক বলা কীভাবে কেউ সাহস করতে পারে? অনেক নায়কই তো আবার বিয়ে করেছেন। হয়তো তিনি সেরা স্বামী নন, তবে নিঃসন্দেহে সেরা পিতা। সন্তানেরা তাকে খুব ভালোবাসে। তিনি কখনো তাদের অবহেলা করেননি।’
প্রকাশ কখনো হেমাকে দোষারোপ করেননি। তবে বলেছেন, নিজে একই জায়গায় থাকলে তিনি হেমার মতো কাজ করতেন না। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি হেমার অনুভূতি। তাকে পৃথিবীর, আত্মীয় ও বন্ধুদের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু আমি যদি হেমার জায়গায় থাকতাম, আমি হেমার মতো কাজ করতাম না। একজন স্ত্রী ও মা হিসেবে আমি এটা করতে পারি না।’