কারাগার থেকে জামিন পেলেন অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ছয় ভারতীয়, পুনরায় পুলিশ হেফাজতে
সংগ্রহীত ছবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ৬ ভারতীয় নাগরিক জামিন লাভের পর কারাগার থেকে বের হয়ে জিম্মাদারের বাড়ি পৌঁছার পর পুনরায় তাদের নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়েছে জেলা পুলিশ। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ। তিনি বলেন, ওই ৬ জনের ব্যাপারে ওপর মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে সোমবার দুপুর ১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম শিশু, নারীসহ ওই ৬ ভারতীয় নাগরিকের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
পরে জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছার পর রাত পৌনে ৮টায় ওই ৬ জনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন জেল সুপার আমজাদ হোসেন।
এর আগে গত ২০ আগস্ট ওই ৬ জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের আলীনগর মহল্লার একটি বাড়ি থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন ২১ আগস্ট সদর থানায় তাদের বিরুদ্ধে ১৯৬২ সালের দি কন্ট্রোল অফ এন্ট্রি আ্যক্ট-এর ৪ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়।
ওই ৬ ভারতীয় নাগরিক হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার পাইকড় থানার পাইকড় গ্রামের মন্নু শেখের ছেলে মো. দানেশ (২৮), তাঁর স্ত্রী সোনালী বেগম (২৬) ও তাদের ছেলে মো. সাব্বির (৮), পাশের বীরভুমের মুরাডাই থানার ঘিতোরা গ্রামের আজিজুল দেওয়ানের স্ত্রী সুইটি বিবি (৩৩) এবং তার দুই ছেলে কুরবান দেওয়ান (১৬) ও ইমাম দেওয়ান (৬)।
গত ২০ আগস্ট গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসবাদের পর পুলিশ জানায়, আটকরা দুটি পরিবার। তারা বাঙালি। দিল্লিতে তারা ইটভাটায় কাজ করতেন। গত ২৪ জুন দিল্লীর ক্যানজোড় ১১ সেক্টরের কালীমাতা থানা পুলিশ তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে।
পরে ২৬ জুলাই বিএসএফ এদের কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করে। এরপর তারা ঢাকায় চলে যায়। পরে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এসে বসবাস শুরু করে।
এদিকে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওই ৬ নাগরিক কারাগারে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দু’দেশের বিভিন্ন মহলে নানা রকম আলোচনা শুরু হয়। এ অবস্থায় গত বুধবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নয়াগোলা গাইনপাড়া মহল্লার মৃত রহমত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন আদালতে ওই ৬ জনের জামিন আবেদন করলে মূলত: সোনালীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি বিবেচনা করে আদাদলত ৬ জনকে ফারুকের জিম্মায় কয়েকটি শর্তে জামিন দেন।
আগামী ৩ ডিসেম্বর তাদের আবার আদালতে হাজির হওয়ার তারিখ ধার্য্য হয়। ফারুকের পূর্ব পুরুষের বাড়ি ভারতে সোনালীদের বাড়ির এলাকায়। তারা পরস্পর বংশীয় আত্মীয়।
ফারুক হোসেন বলেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে ৬ জনকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাওয়ানোর পরপরই রাত ১০টার দিকে আবার তাদের সদর থানায় নেওয়া হয়। ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় নিরাপত্তা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ তাকে জানিয়েছে।
এদিকে ভারতে বিষয়টি আলোচিত হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার সদস্য সামিরুল ইসলামের প্রতিনিধি মফিজুল শেখ সোনালীদের ভারতে ফেরৎ নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। বুধবার তিনি জেল গেটে উপস্থিত ছিলেন। ফারুক আরো বলেন, বিষয়টির নিষ্পতির সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জড়িত।