রাফাহ সীমান্ত একমুখী খোলার ইসরায়েলি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান মিসরের
ছবি রয়টাস
মিসর জানিয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে কেবল ফিলিস্তিনিদের বের হওয়ার উদ্দেশ্যে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার ইসরায়েলি ঘোষণা তারা প্রত্যাখ্যান করছে। এক সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য দিয়েছে মিসরের স্টেট ইনফরমেশন সার্ভিস।
নাম প্রকাশ না করা ওই সূত্র বলেন, যদি রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালু করার বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়, তবে তা যুদ্ধবিরতির কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুই দিকেই চলাচলের জন্য হতে হবে; ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত একমুখী প্রস্থান নয়।
তিনি আরো জানান, রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলার বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমন্বয় হয়েছে, এই দাবি তারা অস্বীকার করেন।
এর আগে ইসরায়েল জানিয়েছিল যে তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সীমান্তটি খুলবে, তবে কেবল সেই ফিলিস্তিনিদের জন্য যারা মিসরে প্রবেশ করতে চান। এটি অনেকের মতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে মানুষের জোরপূর্বক স্থানান্তর বা জাতিগত নির্মূলের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইসরায়েল বুধবার ঘোষণা করেছে যে, গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মিসরে যেতে পারবেন—যা শান্তি পরিকল্পনায় উল্লেখিত একটি বিধানের অংশ। সীমান্তটি খুলে দেওয়া হবে মিসর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সমন্বয় করে।
উল্লেখ্য, রাফাহ ক্রসিংটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রথম যুদ্ধবিরতির সময় কিছু সময়ের জন্য খোলা হয়েছিল। প্রথমে অনুমোদিত গাজাবাসীদের বের হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য, পরে ত্রাণবাহী ট্রাক ঢোকার জন্য।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি পরিকল্পনার অংশ ছাড়াও রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলার দাবি জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের মে মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ক্রসিংটির ফিলিস্তিনি পাশের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
রাফাহ ক্রসিং গাজাবাসীদের জন্য অন্যতম প্রধান বহির্গমন পথ, বিশেষ করে ২০০৭ সাল থেকে ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজা কার্যত বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায়।