গোপালগঞ্জে বড়দিন উদযাপন: ১৬৭ গির্জায় হবে বিশেষ প্রার্থনা

গোপালগঞ্জে বড়দিন উদযাপন: ১৬৭ গির্জায় হবে বিশেষ প্রার্থনা

সংগৃহীত ছবি

২৫ ডিসেম্বর যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন। এ দিনটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে শুভ বড়দিন বা ক্রিসমাস ডে হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে প্রতিটি গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, বাইবেল পাঠ, কেক কাটা, প্রীতিভোজ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

গোপালগঞ্জে বড়দিন উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার গির্জাগুলো নবরূপে সেজে উঠেছে। আলোকসজ্জার পাশাপাশি গির্জা এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে গির্জার আশপাশের পরিবেশ। টানানো হয়েছে বড়দিনের তারা, বর্ণিলভাবে সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি এবং বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার লাগানো হয়েছে।

জেলার ১৬৭টি গির্জায় বড়দিন উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য গির্জাগুলোতে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বড়দিন ঘিরে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ পৃথকভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছে। গির্জার ফাদার ও পালকরা জানিয়েছেন, উৎসবমুখর পরিবেশে এবছরের বড়দিন উদযাপিত হবে এবং বড়দিনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৬৭টি গির্জা রয়েছে। এর মধ্যে কোটালীপাড়া উপজেলায় ১০০টি, মুকসুদপুর উপজেলায় ৩৬টি, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ২১টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ৫টি এবং টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৫টি গির্জা রয়েছে।

মুকসুদপুর উপজেলার বানিয়ারচর ক্যাথলিক গির্জার ফাদার ডেভিড ঘরামী বলেন, যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর আমাদের কাছে একটি আনন্দঘন ও শুভদিন। ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯টা থেকে আমাদের গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা শুরু হবে, যা চলবে রাত ১টা পর্যন্ত। এরপর কেক কাটা হবে। ২৫ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রার্থনা চলবে। দুপুরে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ১ হাজার ২০০ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেবেন। বিকেলে বড়দিনের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও বলেন, বড়দিনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের হুমকি নেই। পুলিশের পাশাপাশি গির্জার স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

শহরের সেন্ট মথুরানাথ এজি চার্চের পালক সম্যুয়েল এস বালা বলেন, সম্প্রীতির জেলা গোপালগঞ্জে এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে বড়দিন উদযাপিত হবে। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা জাঁকজমকভাবে বড়দিন উদযাপনের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছি।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বড়দিন উদযাপন কমিটি ও কোর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করা হয়েছে। বড় গির্জাগুলোতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন এবং ছোট গির্জা এলাকায় সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম টহল দেবে।

জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জ্জামান বলেন, বড়দিনকে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সভা করা হয়েছে। এছাড়া জেলার প্রতিটি গির্জার জন্য ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সে হিসেবে জেলায় সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৮৩ টন ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।