কুমিল্লায় ২৮ বছরের কর্মজীবন শেষে ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিলেন অধ্যক্ষ

কুমিল্লায় ২৮ বছরের কর্মজীবন শেষে ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিলেন অধ্যক্ষ

সংগ্রহীত ছবি

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু সরকারি কলেজের বিদায়ী অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামাল হোসেন। সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বায়োজিদ সুমন, ডা. সাবেকুন নাহার, ডা. আবু হানিফ ও ব্যাংকার আরিফুর রহমান।

এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নিমসার জুনাব আলী কলেজের অধ্যক্ষ মামুন মিয়া মজুমদার, কুমিল্লা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান, নাগাইশ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খলিল উদ্দিন আখন্দ, পারুয়ারা আবদুল মতিন খসরু কলেজের অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ ভুইয়া, মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম ও সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জামশেদুল আলম।

বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্তে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগ সামলাতে না পেরে তিনিও বারবার চোখ মুছেন। ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাকে বিদায় জানানো হয়। ভালোবাসার উষ্ণতায় ভিজে ওঠে পুরো মিলনায়তন।

বক্তারা বলেন, টিনের ঘরের ছোট্ট প্রতিষ্ঠানকে বোর্ড সেরা ফলাফলের পথে নিয়ে গিয়ে সরকারিকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মো. মফিজুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে এই প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে ‘সোনার ফলন’ হয়েছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সরকারিকরণের ফলে দরিদ্র শিক্ষার্থীরা কম ব্যয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।

বিদায়ী অধ্যক্ষের সহধর্মিণী, ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শামীমা আক্তার রেখা বলেন, ‘তার দুটি পরিবার। একটি কলেজ, আরেকটি আমরা। কলেজকে তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আজ আপনাদের চোখ ভেজানো ভালোবাসা দেখে বুঝছি, তিনি সঠিক পথেই হেঁটেছেন।’

অধ্যক্ষ মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যখন কলেজে যোগ দিই, তখন শিক্ষার্থী ছিল শতাধিক। অনেকেই ঠিকমতো বেতন দিতে পারত না। আজ সেখানে ১২০০’র বেশি শিক্ষার্থী। টিনের ঘর থেকে বহুতল ভবনে রূপ নিয়েছে কলেজটি। সবার সহযোগিতায় কিছু কাজ করতে পেরেছি। এই তৃপ্তি নিয়েই অবসরে গেলাম।’

তিনি আরও বলেন, অবসরজীবনে বাগান করা ও শিক্ষা-সামাজিক কর্মকাণ্ডে সময় দিতে চান।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে তিনি গণিতের প্রভাষক হিসেবে কলেজে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের কারণে ২০১৮ সালে কালিকাপুর আবদুল মতিন খসরু কলেজ সরকারিকরণ হয়।