শোকের আবহ কক্সবাজার সৈকতেও

শোকের আবহ কক্সবাজার সৈকতেও

সংগ্রহীত ছবি

গোধূলিলগ্নে হাজারো দর্শনার্থী কক্সবাজারের সৈকতে দাঁড়িয়ে বিদায় জানিয়েছে ২০২৫ সালের শেষ সূর্যাস্তটি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারো পর্যটক ভিড় করেছিল বছরের শেষ দিনে সাগর পাড়ের বালুকাময় সৈকতে। তবে সেই ভিড় ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় অর্ধেকাংশেরও কম। সদ্য প্রয়াত দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজাসহ সরকারঘোষিত শোক দিবসের আবহ ছিল কক্সবাজার সৈকতেও।

নামাজে জানাজায় অংশ নিতে দেশের নানা প্রান্তের লোকজনের ঢাকামুখী হবার কারণে থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে পর্যটক সমাগম কম হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, বুধবার (৩১ ডিসেম্ব) বিকেলে কক্সবাজার সৈকত ছিল প্রায় ফাঁকা। কক্সবাজারের বাইরের দূরান্তের ভ্রমণকারীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে সূর্যাস্তের আগে আগে সৈকতে বেশ কিছু লোকজনের ভিড় জমে যায়।

তাদের বেশির ভাগই স্থানীয়। 

সৈকতে সমবেত লোকজন জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকায় সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো কক্সবাজারের স্থানীয় লোকজনও গেছেন।

কিশোরগঞ্জ থেকে সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক মুমিনুল ইসলাম ও রিজভিয়া রহমান দম্পতি জানিয়েছেন, ভাগ্যিস আমরা আরো একদিন আগে কক্সবাজার এসেছিলাম। মঙ্গলবার রাতে আসতে চাইলে কিছুতেই আসা সম্ভব হতো না।

কারণ বুধবারের জানাজায় অংশ নিতে দেশের নানা প্রান্তের গাড়ির বহর ছিল রাজধানীমুখি। মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজারমুখি যাত্রীবাহী নৈশ কোচের সংখ্যাও ছিল কম। এজন্যই পর্যটকের সমাগম কমে গেছে।

তারা জানান, কক্সবাজারের হোটেলে উঠে তারা জানতে পেরেছেন অগ্রিম কক্ষ বুকিং নিয়েও যানবাহনের অভাবে অনেক পর্যটক কক্সবাজার এসে পৌঁছাতে পারেননি। তাও কক্সবাজারে যারা বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন তারাও একদিন-দুদিন আগে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত বিচকর্মী মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে জানান, ঢাকায় প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে এমনিতেই পর্যটকের সংখ্যা কম হবে জানতাম। কিন্তু এরকম অস্বাভাবিক কম হবে ভাবতেও পারিনি।

তিনি বলেন, প্রতি বছর থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে কক্সবাজার সৈকতে নানা বিনোদনের আয়োজন থাকে, কিন্তু এবারের শোক দিবসের কারণে তাও বন্ধ রাখা হয়েছে। বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকার কারণেও অনেকেই বেড়াতে আসেননি। 


টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, থার্টিফার্স্ট উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য আমরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সৈকতে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যদের টহল অব্যাহত রয়েছে। টহল দল হ্যান্ড মাইক নিয়ে পর্যটকদের মোবাইল, মানিব্যাগসহ মূল্যবান পণ্য সামলিয়ে রাখাসহ সাগরে গোসলে নামার ব্যাপারে সতর্ক করে দিচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানিয়েছেন, থার্টিফাস্টে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের ঘোষিত শোক দিবসের কারণে সৈকতে ওপেন বিনোদন অনুষ্ঠানসহ শহরের বার ও মদের দোকানগুলো বন্ধ রাখার নির্দ্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, বিদায়ী বছরে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের সমাগম কম হয়েছে।