গোপালগঞ্জে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
সংগ্রহীত ছবি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পূর্বশত্রুতার জেরে মোখলেস মোল্লা (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের তারাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মোখলেস মোল্লা ওই উপজেলার তারাইল পূর্বপাড়া গ্রামের কালা মিয়া মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় মোখলেস মোল্লা তারাইল বাজার থেকে সাকিব নামে স্থানীয় এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
পথে স্থানীয় নাজির কাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে ৪/৫ জন দুর্বৃত্ত তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় মোটরসাইকেল চালক সাকিব ও আরোহী মোখলেস মোল্লাকে মারধর করেন তারা। একপর্যায়ে সাকিব পালিয়ে যেতে পারলেও দুর্বৃত্তরা মোখলেসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।
পরে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোখলেসকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেজভাই কেরামত আলী মোল্লা বলেন, সাগর কাজী, মেজবাহ, মফিজ ও রফিজ বিনাদোষে আমার ভাইকে রামদা, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে রেখে যায়। আমার ভাই গরিব মানুষের পক্ষে কথা বলে বিধায় এভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। আমার ভাইকে যারা কুপিয়ে মেরেছে, আমি তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসি চাই।
এদিকে গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ কে এম সিরাজুল ইসলাম জানান, রাত ৮টার দিকে মোখলেস মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।