ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সংগ্রহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে। তিনি সতর্ক করে জানিয়েছে, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ওয়াশিংটন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।’ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা লকডাউনে আছি এবং যেতে প্রস্তুত।’, তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির একজন সিনিয়র উপদেষ্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ট্রাম্প যদি হস্তক্ষেপ করেন তবে তাকে ‘সাবধান’ থাকার আহ্বান জানান। এ ছাড়া তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
ইরানে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতিকে কেন্দ্র করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা গণবিক্ষোভে দেশটিতে কমপক্ষে আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ট্রুথ সোশ্যালে শুক্রবারের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে এবং সহিংসভাবে হত্যা করে (যা তাদের পরিচিত কৌশল),তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।
’ তার পোস্টে ইরানি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।
জুন মাসে ট্রাম্পের নির্দেশে আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল। আমেরিকান কর্মকর্তারা পরে দাবি করেছিলেন, ওই হামলার ফলে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে দিয়েছে, তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। প্রতিশোধ হিসেবে, ইরান কাতারে অবস্থিত একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।
তেহরানে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক তরুণী বিবিসির নিউজআওয়ার অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী ভয় পায়। ট্রাম্প কিছু বললে বা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছু বললে তারা কেঁপে ওঠে।’ নিজের নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরো জানান, ‘বিক্ষোভকারীরা বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়ে আসছে। তার ভাষায়, নিরাপত্তা বাহিনী বিশ্বাস করে, ট্রাম্প যা বলেন, তিনি সেটাই করেন, আর তারা জানে কিছু ঘটলে তার পরিণতি তাদের ভোগ করতেই হবে।’
গত রবিবার থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আটজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী হেঙ্গাওয়ের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লর্ডেগান শহরে বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের নাম আহমেদ জলিল এবং সাজ্জাদ ভালমানেশ।
ফার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজনায় তিনজন এবং কৌহদাশতে একজন নিহত হয়েছেন। তারা বিক্ষোভকারী নাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। মধ্য ইরানের ফুলাদশহরে একজনের মৃত্যুর খবর এবং দক্ষিণে মারভদাশতে একজনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। বিবিসি স্বাধীনভাবে মৃত্যুর ঘটনা যাচাই করতে পারেনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজে বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় গাড়িতে আগুন লাগানোর দৃশ্য দেখা গেছে। বিবিসি পার্সিয়ান বৃহস্পতিবার লর্ডেগান, তেহরান এবং মারভদাশতে বিক্ষোভের ভিডিও যাচাই করেছে।
ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, বুধবার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কৌহদাশতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর এক তরুণ সদস্য নিহত হয়েছেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, ওই ব্যক্তি একজন বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। সেই ব্যক্তির দাফন অনুষ্ঠানেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার হাজার হাজার শোকাহত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন সেখানে। নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাকধারী সদস্যরা তার কফিন বহন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু জনতা তাদের কাছ থেকে কফিনটি ছিনিয়ে নিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়।
রবিবার তেহরানে প্রথম বিক্ষোভ শুরু করে দোকানদারদের। তারা খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্যের ব্যাপক পতনের কারণে ক্ষুব্ধ। এরপর মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেয় এবং বিক্ষোভ বেশ কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ দেশটির ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া শুরু করে। এরপর থেকে অনেক বিক্ষোভকারী খামেনির শাসনের অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। কেউ কেউ বলেছেন, তারা রাজতন্ত্রে ফিরে যেতে চান।
বিবিসির সাথে কথা বলা বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো ধরণের স্বাধীনতা নেই। আমরা প্রতিদিন লড়াই করি, আমরা প্রতিদিন সবচেয়ে নৃশংস জিনিসের মুখোমুখি হই। আমরা এ শাসনের অবসান চাই, আমাদের জীবনের মূল্য দিয়েও হলেও।’
এদিকে রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘বৈধ দাবি’ শুনবেন। কিন্তু দেশটির প্রসিকিউটর-জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ সতর্ক করে বলেছেন, অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
সূত্র : বিবিসি