জেনে নিন ত্বকের যত্নে পান পাতার উপকারিতা
ছবিঃ সংগৃহীত।
খাবার খাওয়ার পর এক খিলি পান খাওয়ার চল বাঙালির বহু পুরনো অভ্যাস। হজমশক্তি বাড়ানো বা মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে পান পাতার জুড়ি মেলা ভার।কিন্তু আপনি কি জানেন, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পান পাতাকে ত্বকের জন্য ‘ভেষজ মহৌষধ’ বলা হয়েছে? অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানে ভরপুর পান পাতা আপনার ত্বকের ব্রণ, কালো ছোপ ও রুক্ষতা দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
বর্তমানে মানুষ রাসায়নিক প্রসাধনী ছেড়ে যখন ভেষজ রূপচর্চায় ঝুঁকছে, তখন আপনার ঘরে থাকা পান পাতাই হতে পারে নিখুঁত ত্বকের চাবিকাঠি।
কিভাবে ব্যবহার করবেন, তা জানুন আজকের প্রতিবেদনে।
ঝলমলে ত্বক পাওয়ার তিন কৌশল
পানে থাকা ট্যানিন ও এসেনশিয়াল অয়েল ত্বকের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়। নিচে এর তিনটি সহজ ব্যবহার পদ্ধতি দেওয়া হলো—
ব্রণ ও ফুসকুড়ি দূর করতে
পান পাতায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ, যা ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করে।
ব্যবহার পদ্ধতি : কয়েকটি টাটকা পান পাতা ধুয়ে বেটে নিন।
এর সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। কয়েক দিনেই ব্রণ শুকিয়ে যাবে এবং লালচে ভাব কমে যাবে।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফেসপ্যাক
পান পাতা ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়, ফলে ত্বকে প্রাকৃতিক আভা ফিরে আসে।
ব্যবহার পদ্ধতি : ৩–৪টি পান পাতা বেটে তার সঙ্গে এক চামচ বেসন ও সামান্য মধু মেশান। এই প্যাকটি মুখে ও গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এটি রোদে পোড়া দাগ দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকর।
ডার্ক স্পট বা কালো ছোপ নিরাময়ে
অনেকেরই চোখের নিচে বা গালে জেদি কালো দাগ থাকে।
পান পাতার রস এই পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে।
ব্যবহার পদ্ধতি : পান পাতার রস বের করে তাতে কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল বা ই-ক্যাপসুল মিশিয়ে দাগের ওপর লাগিয়ে রাতে ঘুমাতে যান। নিয়মিত ব্যবহারে দাগ হালকা হয়ে আসবে।
পান পাতা ব্যবহারের বাড়তি সুফল
চুলকানি কমায় : ত্বকে অ্যালার্জি বা র্যাশ হলে পান পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে সেই জায়গা ধুয়ে ফেললে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।
তেলতেলে ভাব দূর করে : যাদের ত্বক খুব তৈলাক্ত, তারা পান পাতা বাটা ও লেবুর রসের মিশ্রণ ব্যবহার করলে ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ হয়।
সতর্কবার্তা
পান পাতা বেশ শক্তিশালী ভেষজ। তাই মুখে সরাসরি ব্যবহারের আগে হাতের ছোট একটি অংশে ‘প্যাচ টেস্ট’ করে দেখে নিন আপনার ত্বকে কোনো জ্বালাপোড়া হচ্ছে কি না। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি।