হাড়কাঁপানো শীতে বগুড়ায় গরম কাপড় বিক্রির হিড়িক
সংগৃহীত ছবি
হাড়কাঁপানো শীতে বগুড়ায় ফুটপাত থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে গরম কাপড় বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, হুডি এবং শিশুদের শীতবস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা দেখা যাচ্ছে। কম দামে পোশাক কিনতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পছন্দের গরম কাপড় কিনছেন।
গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় মার্কেটগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই। বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ।
বগুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার (৫ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। তীব্র শীতে জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা ও বাতাসে আর্দ্রতার কারণে সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও ছিন্নমূলরা।
জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে বগুড়ায় হাড়কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে। ভারি কাপড় ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি ঘরের ভেতরেও ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। এই প্রচণ্ড শীতের কারণে বগুড়ার বিভিন্ন মার্কেটে শীতের পোশাকের বিক্রি বেড়েছে। শহরের নিউমার্কেট, আলতাফ আলী মার্কেট, রানার প্লাজা, জলেশ্বরীতলা এলাকার বিভিন্ন শোরুম, রেলওয়ে হকার্স মার্কেটসহ অন্যান্য মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মার্কেটগুলোতে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন সাইজ ও মানের জ্যাকেট, সোয়েটার, ব্লেজার, হুডি, সুইটশার্ট, মোটা কাপড়ের টি-শার্ট, মাফলার, কানটুপি ও নানা ধরনের শীতবস্ত্র। পাশাপাশি সাতমাথাসহ শহরের বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। দাম নাগালের মধ্যে থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন অনেক ক্রেতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর এসব এলাকা।
ফুটপাতের দোকানগুলোতে মানভেদে বড়দের শীতবস্ত্রের দাম ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত এবং শিশুদের জন্য শীতবস্ত্র মিলছে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এসব দোকানই এখন প্রধান ভরসা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের জন্য একসঙ্গে একাধিক শীতের পোশাক কিনছেন।
মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে শীতের পোশাকের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কয়েক দিন আগে যে পরিমাণ বিক্রি হতো, এখন তা দ্বিগুণেরও বেশি। কাপড়ের মান অনুযায়ী ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দামে শীতের পোশাক বিক্রি হচ্ছে।
ফুটপাতের হকাররা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ায় গরম কাপড়ের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। এতে ব্যবসায়ীদেরও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলো এখন সবচেয়ে বড় ভরসা। এসব দোকান না থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষদের পক্ষে শীত মোকাবিলা করা কঠিন হতো।
ফুটপাত থেকে কাপড় কিনতে আসা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফুটপাতে শীতের কাপড়ের দাম তুলনামূলক কম এবং দেখে-শুনে কেনা যায়। এখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষই গরম কাপড় কিনতে পারেন। হাতের নাগালে দাম থাকায় সবাই সাধ্যমতো শীতের পোশাক সংগ্রহ করছেন।