তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে অস্ট্রেলিয়া
ছবিঃ সংগৃহীত।
তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চল। দেশটির কিছু এলাকায় ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ২০১৯–২০ সালের ব্ল্যাক সামার দাবানলের পর থেকে এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিগুলোর একটি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুইন্সল্যান্ড ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সব রাজ্য ও অঞ্চলে তীব্র থেকে চরম তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়েছে।
আগামী কয়েক দিন উচ্চ তাপমাত্রা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া রাজ্যে সম্পূর্ণ অগ্নিনিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাজ্যটির উত্তরাঞ্চলে ৪৫০টি স্কুল ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে বিভিন্ন পার্ক।
এই অঞ্চলের দাবানল ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ক্যাটাস্ট্রফিক, যা সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর।
একজন আবহাওয়াবিদ বিবিসিকে জানান, তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে এত উচ্চমাত্রার দাবানল ঝুঁকির সমন্বয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে একাধিক দাবানল নিয়ন্ত্রণে রাখতে লড়াই করেন দমকলকর্মীরা।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ভডোঙ্গা শহরের কাছে বড় একটি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২টির বেশি বিমান দিয়ে পানি নিক্ষেপ করতে হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুধবার মেলবোর্নে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ওই দিন শহরটির তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিছু উপকূলীয় শহরে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
নিউ সাউথ ওয়েলসে তাপপ্রবাহ শনিবার চূড়ায় পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সেদিন সিডনিতে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে থাকতে পারে।
ব্যুরো অব মেটিওরোলজির আবহাওয়াবিদ অ্যাঙ্গাস হাইনস বিবিসিকে বলেন, বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়াজুড়ে বাতাসের গতি বাড়বে। এর সঙ্গে বজ্রঝড় ও শুষ্ক বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় রাজ্যটির উত্তরাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে।
শুক্রবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার প্রায় সব এলাকা, ভিক্টোরিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলসের বেশিরভাগ অংশ এবং তাসমানিয়ার কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ চরম আকার ধারণ করবে। এদিন দাবানলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন হাইনস। তাঁর ভাষায়, ব্ল্যাক সামারের পর এটি দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯–২০ সালে অস্ট্রেলিয়া ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখে পড়ে, যা ব্ল্যাক সামার নামে পরিচিত। ওই সময় বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়।