জর্ডানের বন্দরে মার্কিন রণতরী, ইরানে হামলা শিগগিরই?
ছবিঃ সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কার মাঝেই শুক্রবার জর্ডানের আকাবা উপসাগরে নোঙর করতে শুরু করেছে মার্কিন সামরিক জাহাজ।ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কানের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই পদক্ষেপটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার উন্নত সামরিক প্রস্তুতি এবং সমন্বয়ের অংশ।
একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নৌ-মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে। আকাবা উপসাগরটি সরাসরি ইসরায়েলের বন্দর নগরী ইলাতের দক্ষিণে অবস্থিত, যেখানে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে সৃষ্টি হওয়া আর্থিক সংকটে গত জুলাই থেকে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই বৈঠকে মূলত ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে মার্কিন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রধান শ্লোমি বাইন্ডার সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন সফর করেন।
অন্যদিকে ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল এই অস্থিরতায় উস্কানি দিচ্ছে যাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধে টেনে আনা যায়।
যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এর মধ্যেই মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এই অঞ্চলে পৌঁছেছে এবং সামনের দিনগুলোতে থাড এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারিও মোতায়েন করা হতে পারে। এছাড়া জর্ডানে এফ-ফিফটিন-ই স্ট্রাইক ইগল এবং কাতারে বি-ফিফটি-টু বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশাল এক নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার মোহাম্মদ আকবরজাদে সতর্ক করেছেন, যেসব দেশ তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেবে, তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে উত্তেজনার এই চরম মুহূর্তেও ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ জানিয়েছেন, তেহরান এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছে, তবে তা অবশ্যই ন্যায্য ও চাপমুক্ত হতে হবে।