ভোটের মাঠে ব্যারিস্টার ম্যাজিক
ফাইল ছবি
নির্বাচনি মাঠ ক্রমেই হয়ে উঠছে উত্তপ্ত। আর সেই উত্তাপে কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এক ব্যারিস্টার। যিনি ভোটের মাঠে সাবলীল বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি আর মানুষের ভালোবাসায় নিজেকে উজাড় করে দিয়ে অঙ্গীকার করছেন আগামীর সমৃদ্ধ এলাকা গড়ার। তাঁর প্রচার ও প্রচারণায় দলের সকল প্রকার গ্রপিংয়ের উর্ধ্বে উঠে এক কাতারে এসে মাঠে নেমেছেন নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ব্যতিক্রমী চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীনের জয় নিশ্চিত হলেও ঘাম ঝরাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণায়। এ আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে আরও ৬ জন প্রার্থী থাকলেও চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে একমাত্র ব্যারিস্টার এই প্রার্থীকে ঘিরেই জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। ফলে স্থানীয়রা বলছেন, ব্যারিস্টারের ম্যাজিকে ভোটের মাঠ তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, পাশাপাশি আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন ভোটারদেরও।
জানা যায়, চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী ও বায়েজিদ আংশিক আসনে মোট প্রার্থী ছয়জন। তারা হলেন, বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনির, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ার প্রতীকে মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস প্রতীকে মো. আলা উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে মতি উল্লাহ নূরী ও ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম উদ্দিন রিয়াদ। তবে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলালের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনিরের সাথে। তিনি স্থানীয়ভাবে হেফাজতে ইসলামের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ও হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। তবে ভোটের মাঠে ব্যারিস্টারের ম্যাজিকে তাদের কাউকে আশেপাশেও দেখা যাচ্ছে না।
ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, ক্ষমতার জন্য নয়, আমি এই এলাকার সাধারণ মানুষের খেদমত করতেই হাটহাজারীর মাঠে নেমেছি। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে বিগত ১৭ বছরের সব অপ্রাপ্তি, উন্নয়ন বঞ্চনার দুঃখ পুষিয়ে দিতে চাই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ধানের শীষে ভোট দিন, আমি হাটহাজারীকে সারা বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয়, সমৃদ্ধ ও আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি কখনো বিনা ভোটে, কখনো দিনের ভোট রাতে নিয়ে আবার কখনো আমি-ডামি ভোটে নির্বাচনী তামাশা করে এই সংসদীয় এলাকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। তিনি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা শুধু নিজেদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন করেছে। আগামীতে এই এলাকার মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ থেকে জালালাবাদ বায়েজিদ পর্যন্ত একটি ‘মডেল সংসদীয় এলাকা’ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর হেলাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনীতি নিয়ে সরব ছিলেন। ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর তিনি নির্বাচনী মাঠগুছানোর দিকে নজর দিয়েছেন। ভোটের তফসিল ঘোষণার আগে থেকে তিনি এলাকার নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করেছেন। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে ভোটের মাঠে এগিয়ে রেখেছে। নির্বাচনী তফসিল ও প্রতীক বরাদ্দের পর নিজ পিতা সাবেক মেয়র ও প্রতিমন্ত্রী মীর নাছির উদ্দীনকে নিয়ে ভোটের প্রচারণা শুরু করেছেন। ফলে প্রবীণ ভোটারদের টানতে তিনি সমর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি নবীন ও তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই বিএনপি নেতা। নারী ভোটারদের টানতে মীর হেলালপত্নী নওশীন আরজান হেলাল বিভিন্ন গ্রামে ও পাড়ায় পাড়ায় যাচ্ছেন ধানের শীষের প্রচারে। যা অন্য ৫ প্রার্থীর তুলনায় ব্যারিস্টার মীর হেলালকে এগিয়ে রেখেছে। এছাড়াও নিয়মিত গণসংযোগ, প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ভোটের মাঠে পাশে পেয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত আসনটির সাবেক এমপি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানাকেও। ফলে দলের সকল গ্রুপ বা অনুসারী সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে ধানের শীষের বিজয়ে কাজ করছেন। যার কারণে পুরো হাটহাজারী তথা এই আসনের নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ মীর হেলালের ম্যাজিকে কাবু হয়ে পড়েছে। বিপরীতে অন্য প্রার্থীদের সেভাবে প্রচারণা বা গণসংযোগ দেখা যাচ্ছে না। তবে জামায়াতে ইসলামী ও কওমী মাদ্রাসা কেন্দ্রিক একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নাছির উদ্দিন মুনিরের। সেখানেও ভাগ বসাবে বিএনপির প্রার্থী। কারণ বিগত সময়ে তাদের যে কোনো আপদে-বিপদে পাশে পেয়েছেন এই প্রার্থীকে। ফলে ভোটের মাঠে অনেকটা এগিয়ে চট্টগ্রামের একমাত্র ব্যারিস্টার এ প্রার্থী। এদিকে অনলাইনে সরব এই প্রার্থী। হাটহাজারীকে নিয়ে চিন্তা, ভাবনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত নানা ভিডিও আপলোড করছেন তিনি। এছাড়াও আসনটির ভোটারদের ভোটকেন্দ্র জানতে অ্যাপস চালু করেছেন তিনি।