রাতজাগা কেন্দ্র, সংশ্লিষ্টদের ছোটাছুটি
সংগ্রহীত ছবি
প্রবেশ মুখের দুই পাশের বাঁশ বাঁধা। দু'টি ভবনই আলোকিত। পাহারারত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ সংশ্লিষ্টা একটু পর পর আসছেন।
রাত ১২টা থেকে ভোর পৌনে ৫টা নাগাদ কয়েকবার গিয়ে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরেই এখানে আসতে শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা। পুরো রাত যেন জেগেছিল এ ভোটকেন্দ্রটি।
কেব্দ্রের বাইরে গিয়ে দেখা যায় বেশ দ্রুতগতিতে রিকশা নিয়ে ছুটছেন চালক। পৌর এলাকার দেবগ্রামের অদিদ মোল্লা নামে এ চালক জানান, তাড়া আছে। নির্বাচনের ডিউটিতে যাবেন এমন একজনকে আনতে কলেজ পাড়ায় যাচ্ছেন।
আর মাত্র কিছু সময়।
এরপরই শুরু হবে ভোট নেওয়া। সময় নির্ধারণ করা আছে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। এবার শুরুর দিকেই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা বলে বেড়াচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ছয়টি সংসদীয় আসন রয়েছে। এসব আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৪৯ জন।
বেশিরভাগ আসনেই তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার ২৬ লাখ আট হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪০ জন এবং নারী ভোটার ১২ লাখ ৪১ হাজার ৭৩১ জন।
৬টি সংসদীয় আসনে ৮০৫টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ৫৭৪টিকে কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ), ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করেছে জেলা পুলিশ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
নির্বাচনে তিন হাজার ৬৬৩ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬২০ জন, বিজিবির ৪৩০ জন, পুলিশ ২ হাজার ৩৮৯ জন, র্যাব ৭২ জন এবং আনসার ব্যাটালিয়নের ১৫২ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর বাইরে গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।