হবিগঞ্জে প্রার্থী ২৫, আলোচনায় কতজন?
সংগ্রহীত ছবি
হবিগঞ্জের জাতীয় সংসদের চারটি আসনে লড়ছেন ২৫ জন প্রার্থী। জয়ের আলোচনায় আছে ৯ প্রার্থীর নাম। তিনটি আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। একটি আসনে তিন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হতে পারে।
হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৬ জন, নারী ৯ লাখ ৫ হাজার ২৪২ জন ও ২৪ জন হিজড়া।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৯২১ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৬, নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৪০ ও হিজড়া ৫ জন।
আসনটিতে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৫ জন। তারা হলেন–বিএনপির ড. রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী (রিকশা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মোহাম্মদ বদরুর রেজা (চেয়ার) ও বাংলাদেশ জাসদের কাজী তোফায়েল আহমেদ (মোটরগাড়ি)।
তাদের মধ্যে নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার। তাদের মধ্যে নির্বাচনী মাঠে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের ভোটার ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৬২ জন, নারী ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫১ জন ও হিজড়া ৪ জন।
এই আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচজন। তারা হলেন–বিএনপির ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের আব্দুল বাছিত আজাদ (দেওয়াল ঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক আফছার আহমেদ রুপক (ফুটবল), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী লুকমান আহমেদ তালুকদার (মই) ও জাতীয় পার্টির আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী (লাঙ্গল)।
এখানে বিএনপি প্রার্থী ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসানের (ধানের শীষ) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের আব্দুল বাছিত আজাদ (দেওয়াল ঘড়ি)।
তাঁর পক্ষে ১১ দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। যদিও মাঠে বিএনপি প্রার্থীর অবস্থান বেশ শক্ত।
হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৭৩ জন। তাদের মধ্যে নারী ২ লাখ ৬ হাজার ২৬২ ও পুরুষ ২ লাখ ১৩ হাজার ২৯৮। হিজড়া আছেন ১৩ জন। এই আসনে ছয় প্রার্থী আছেন মাঠে। তারা হলেন–বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের জেলা কমিটির সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির আব্দুল মুমিন চৌধুরী (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী শাহিনুর রহমান (ছড়ি) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এসএম সরওয়ার (মোমবাতি)। এই আসনে জি কে গউছের সঙ্গে মূল লড়াইয়ের আভাস মিলেছে কাজী মহসিন আহমেদের।
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের মোট ভোটার ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭১১ জন। তাদের মধ্যে নারী ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯ ও পুরুষ ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬০। এ ছাড়া হিজড়া আছেন দুইজন। এই আসনে প্রার্থী সংখ্যা ৯। তারা হলেন, বিএনপির প্রার্থী ও দলের জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মো. ফয়সল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া), খেলাফত মজলিসের আহমদ আব্দুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন (হারিকেন), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মুজিবুর রহমান (মই), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের রাশেদুল ইসলাম খোকন (ছড়ি), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রেজাউল মোস্তফা (আপেল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আহমদ সাজন (ফুটবল)।
এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সল, ইসলামী ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের আহমদ আব্দুল কাদেরের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে সৈয়দ ফয়সলের সঙ্গে গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দেখা যাচ্ছে।