চাঁদপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

চাঁদপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন

ফাইল ছবি

চাঁদপুরের কচুয়ায় বিদেশ পাঠানোর টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে মারধর ও কাঠের আঘাতে কেরামত আলী (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অপরাধে দু’জনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলার একটি আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-মো. মোশারফ হোসেন (৩৫) ও মো. ইয়াছিন।

নিহত কেরমাত আলী কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের লইয়া মেহের পাঁচধারা গ্রামের লেবার বাড়ির বাসিন্দা। কারাদণ্ড প্রাপ্ত মোশারফ একই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে এবং ইয়াছিন মো. হাছানের ছেলে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ আগস্ট সকালে লেবার বাড়িতে মামলার বাদী ও নিহত কেরামত আলীর ছেলে মো. জসিম উদ্দিনের সাথে বিদেশে পাঠানো টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে আসামিদের সাথে মারধরের ঘটনা ঘটে। বিবাদী মোশারফ গংরা বাদীর ছোট ভাই আল-আমিনের ওপর আক্রমণ চালায়। ওই সময় তাদের মা ও বাবা কেরামত আলী ছেলে আল-আমিনকে রক্ষা করতে আসলে আসামি ইয়াছিনের কাঠের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে কেরামত আলী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সর্বশেষ তাকে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার নবাবপুর টাওয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পরদিন ২৪ আগস্ট নিহত ব্যক্তির ছেলে জসিম উদ্দিন কচুয়া থানায় ৭ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় তৎকালীন কচুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মামুনুর রশিদ সরকার মামুনকে। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ২০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি ইয়াছিনের উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। অপর আসামি মোশারফ হোসেন পলাতক এবং বাকি ৫ আসামির অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. জসিম উদ্দিন প্রধান ও সফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।

সূত্র : বাসস