ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রথম নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা
রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংসদীয় আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন একজন নারী। তিনি হলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করে প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
রুমিন ফারহানার বাবা ভাষা সংগ্রামী অলি আহাদ ১৯৭৩ সালে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচন করেছিলেন।
অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ জোর করে ওনাকে হার দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করেন। এবারের নির্বাচনের মাঠে রুমিন ফারহানা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এ বিষয়টি তুলে ধরেন। রুমিন ফারহানা এর আগে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
১৯৭৩ থেকে ২০২৬ সাল।
দু’বারই ভিন্ন প্রেক্ষাপট। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী ‘দাপটে’ হারিয়ে দেওয়া হয় বাবাকে। ৫৩ বছর পর ‘নিজ দল’ বিএনপি’র চ্যালেঞ্জের মুখে মেয়ে। আছে নানা প্রতিকুলতা।
তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে চ্যালেঞ্জে জয়ী হলেন মেয়ে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন রুমিন ফারহানা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়া রুমিন ফারহানা ‘হাঁস’ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জুনায়েদ আল হাবিব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সংগঠক সম্পাদক শামীমা সিকদার দীনা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটে নারী সংসদ নির্বাচন হওয়ার বিয়ষটি গর্বের ও আনন্দের।
বিশেষ করে কোনো দলের হয়ে না লড়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়াটা খুবই মর্যাদার।’
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন এ জেলায় প্রথমবারের মতো ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এতে বুঝা যায় নারীরা পিছিয়ে নেই।’