অ্যান্টার্কটিকার গহীন সমুদ্রে প্রথমবারের মতো হাঙরের খোঁজ

অ্যান্টার্কটিকার গহীন সমুদ্রে প্রথমবারের মতো হাঙরের খোঁজ

ছবিঃ সংগৃহীত।

বরফশীতল অ্যান্টার্কটিকার অন্ধকার গভীর তলদেশে প্রথমবারের মতো একটি হাঙরের বিচরণ ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে।বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণা ভেঙে দিয়ে দক্ষিণ মেরুর হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা পানিতে এই দানবীয় শিকারির উপস্থিতি সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গত জানুয়ারিতে সাউথ শেটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে প্রায় ৪৯০ মিটার গভীরে এই দৃশ্যটি ধরা পড়ে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অধীনে পরিচালিত মিন্ডারু-ইউডব্লিউএ ডিপ-সি রিসার্চ সেন্টারের একটি বিশেষ ক্যামেরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি রেকর্ড করে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি বিশালকার ‘স্লিপার শার্ক’ অত্যন্ত ধীরগতিতে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। গবেষক অ্যালান জেমিসন এই ঘটনাকে অভাবনীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টার্কটিকার প্রচণ্ড শীতল পানিতে হাঙরের অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। কিন্তু এই নির্দিষ্ট হাঙরটি লম্বায় প্রায় তিন থেকে চার মিটার, যা রীতিমতো একটি শক্তিশালী ট্যাঙ্কের মতো বিশালাকার।

যে স্থানে হাঙরটির দেখা মিলেছে, সেখানকার পানির তাপমাত্রা ছিল মাত্র ১.২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, হাঙরটি সমুদ্রের তলদেশের এমন একটি স্তরে অবস্থান করছিল যেখানে পানি তুলনামূলকভাবে কিছুটা উষ্ণ। সমুদ্রের এই গভীরতায় সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ক্যামেরার কৃত্রিম আলোতে এই শিকারিকে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই আবিষ্কৃত হতে দেখা যায়। ভিডিওতে হাঙরটির পাশে একটি স্কেট মাছকেও নির্বিকারভাবে পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা ওই অঞ্চলের পরিচিত বাসিন্দা।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হাঙররা হয়তো দক্ষিণ মেরুর দিকে সরে আসতে শুরু করেছে। তবে চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী পিটার কাইন মনে করেন, এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় হয়তো অনেক আগে থেকেই সেখানে এই হাঙরদের বসবাস ছিল, যা মানুষের অগোচরে রয়ে গেছে।

অ্যান্টার্কটিকার সমুদ্র প্রচণ্ডভাবে স্তরবিন্যস্ত হওয়ায় গভীর স্তরে তিমির মৃতদেহ বা বিশালাকার স্কুইড খেয়ে এরা বেঁচে থাকতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা। বছরের মাত্র তিন মাস এই অঞ্চলে গবেষণা চালানো সম্ভব হওয়ায় এখানকার রহস্য উদঘাটন করা অত্যন্ত কঠিন, যা এই আবিষ্কারকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।