বাবা-মাকে হারানোর পর জামিনে মুক্তি পেলেন রামুর ২ সহোদর
সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের রামু উপজেলাতে দুদিনের ব্যবধানে বাবা ও মায়ের মৃত্যুতে জানাজায় হাতকড়া পরে অংশ নেওয়া দুই সহোদর ফরিদুল আলম ও নুরুল ইসলাম অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, একাধিক মামলায় প্রায় আড়াই মাস ধরে কক্সবাজার জেলা কারাগারে ছিলেন দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া গ্রামের বাসিন্দা ফরিদুল আলম (৪৫) ও নুরুল ইসলাম (৪২)। বুধবার শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করলে তারা মুক্তি পান।
এর আগে গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তাদের মা মোস্তফা খাতুন (৮০) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরে কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন দুই ভাই। এর দুদিন পর সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাদের বাবা নূর আহমদ (৯০) মারা যান। পরদিন মঙ্গলবার বাবার জানাজা ও দাফনেও প্যারোলে মুক্তি নিয়ে অংশ নেন তারা।
স্বজনরা জানান, কারাগারে থাকায় জীবিত অবস্থায় বাবা-মায়ের শেষ সময় পাশে থাকতে পারেননি দুই ভাই। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল আলম দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং তাঁর ভাই নুরুল ইসলাম ইউনিয়ন জাতীয় শ্রমিক লীগের সহসভাপতি।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।’
এদিকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর স্বজনদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরিবারের দাবি, মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তারা সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয়দের মতে, বাবা-মায়ের মৃত্যুর মতো শোকের মুহূর্তে হাতকড়া পরে জানাজায় অংশ নেওয়ার ঘটনা এলাকায় মানবিক দিক থেকে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ায় পরিবার এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় রয়েছে।