চট্টগ্রামে ঈদ উৎসবে মৌসুমি জ্বরের হানা, ঘাবড়ানোর কারণ নেই
ফাইল ছবি
এবার ঈদ উৎসবে টানা বন্ধ ছিল সাতদিন। সবাই ঈদকে উদযাপন করার প্রস্তুতি নিয়ে কর্মস্থল থেকে বাড়িও ফিরেছেন। কিন্তু বিধি বাম! ঈদ উৎসব-আনন্দে হানা দিয়েছে মৌসুমি জ্বর। চট্টগ্রামে জ্বরের কারণে অনেক পরিবারে ঈদ ম্লান হয়ে গেছে। রমজান মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জ্বরের প্রকোপ শুরু হয়। তবে অধিকাংশ রোগী পরামর্শ অনুযায়ী ঘরে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার অনেক পরিবারের ঈদ আনন্দ জ্বরের কারণে বিষাদে পরিণত হয়। অনেক পরিবারে চারজন সদস্যের সবারই জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও। জ্বরের সঙ্গে আছে সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। তবে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা খুবই কম।
তবে অধিকাংশ রোগী ঘরে বসে চিকিৎসা নিলেও ঈদের ছুটিতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় কাউকে কাউকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। চিকিৎসকরা অনেক রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি না করে বাসায় থেকে ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শিশুরা জ্বর, সর্দি, কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কিছু নেই। পাঁচ থেকে সাতদিন পর এসব জ্বর স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়ে যাবে। এতে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর দরকার নেই। তবে জ্বর সাতদিনের বেশি হয়ে গেলেই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো পরবর্তী চিকিৎসা নিতে হবে। এ সময় কোনো মতেই যেন মায়ের বুকের দুধ বন্ধ না করেন।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. এএইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, প্রতিবছর শীত মৌসুমের পর ঋতু পরিবর্তনের সময় ভাইরাসজনিত জ্বর বা ফ্লুর প্রকোপ বেড়ে যায়। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণে এমন হয়ে থাকে। এই জ্বর পাঁচ থেকে সাতদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এটি ছোঁয়াচে হলেও ঘাবড়ানোর কারণ নেই। কেবল প্যারাসিটামল এবং তরলজাতীয় খাবার খেতে হবে।