চাকসু সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১

চাকসু সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১

প্রতিকি ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনায় জালাল উদ্দিন মুন্না নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাটহাজারী মাদ্রাসার পাশের একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে হাটহাজারী থেকে তেল নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তার হাতে, পায়ে ও মাথায় জখম হয় এবং চোখের উপরের অংশ ক্ষুরের আঘাতে কেটে যায়। তার সঙ্গে থাকা ভাগিনাকেও মারধর করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তর করা হয়।

ফেসবুকে মাসুম বিল্লাহ লেখেন, গত ৪ মার্চ ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালানোর ঘটনায় এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। সেই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজে সমঝোতা না করে তার ওপর দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই সমঝোতার জের ধরেই হামলাকারীরা তাকে টার্গেট করে এবং ব্লেড ও ক্ষুর দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে।

চাকসুর নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সোহান জানান, হামলাকারীরা সম্ভবত হাটহাজারী থেকেই মাসুমকে অনুসরণ করে এবং পথ আটকে তার ওপর হামলা চালায়।

জানা যায়, গত ৪ মার্চ বহিরাগত মো. আরিফুল ইসলাম ক্যাম্পাসে বাইক চালিয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজকে আহত করেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে সমঝোতায় মধ্যস্থতা করেছিলেন মাসুম বিল্লাহ। তখন আরিফের পিতা চিকিৎসা বাবদ ২০ হাজার টাকা দিয়ে এবং রাজ সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাইকটি নিরাপত্তা দপ্তরে রাখার শর্তে মুচলেকা দিয়েছিলেন।

এদিকে মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে হতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নিয়ে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেন চাকসু নেতারা। মানববন্ধনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে চাকসুর সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত বলেন, বহিরাগতদের সঙ্গে সমঝোতার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নয়, এটি প্রশাসনের কাজ। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার দীর্ঘ সময় পরেও হামলাকারীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, প্রশাসন অনেক সময় সন্ত্রাসীদের আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়, যা কোনো আইনে স্বীকৃত নয়। তিনি দাবি করেন, সন্ত্রাসীদের আটক করার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।

চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, হামলার ১৭-১৮ ঘণ্টা পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি হাটহাজারী থানা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নেওয়ার আহ্বান জানান।

জানতে চাইলে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, হামলারি পর অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।