সেতুর কাজের ধীরগতিতে জনভোগান্তি, জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি
সংগৃহীত ছবি
মুন্সীগঞ্জ সদর, সিরাজদিখান, টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজংসহ মুন্সীগঞ্জ জেলা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার কিছু অংশের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুচর চৌরাস্তায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে বালুচর ইউনিয়নের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এতে মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত এক হাজারের বেশি মানুষ দলমত নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়ন এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের মোল্লাবাজার অংশের মধ্যে ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মাণাধীন মোল্লাবাজার সেতুর কাজ ২০১৮ সালে শুরু হলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার রূম্পা ঘোষের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদের তথ্য কর্মকর্তা মো. বশির লস্কর। এছাড়া কেরানীগঞ্জ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফ।
এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কর্মরত প্রকৌশলী মো. মান্নান প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
শাহিদুল হাসান শাওনের পরিচালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আইসিটি কর্মকর্তা (অব.) নজরুল ইসলাম, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জমির হোসেন, সমাজসেবক সাহাব উদ্দিন বাদল, বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. আওলাদ হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল লতিফ, সমাজসেবক মো. মোশারফ হোসেন, সমাজসেবক শহীদ বাউল, সমাজসেবক আবুল হাসেম, আলেম সমাজের প্রতিনিধি হাফেজ মাওলানা মো. মতলুবুর রহমান মোতালিব হুজুরসহ স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, মোল্লাবাজার সেতুটি চালু হলে মুন্সীগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে। তবে বারবার দাবি উত্থাপনের পরও কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
তারা অবিলম্বে সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।