ঘুমের আগে যেভাবে গোসল করলে মুক্তি পাবেন অনিদ্রা থেকে
ফাইল ফটো
শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ভালো ঘুমের বিকল্প নেই। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে অনেকেই প্রশান্তির ঘুমের জন্য সহজ কোনো উপায় খোঁজেন। সম্প্রতি ভালো ঘুমের জন্য অন্ধকারে বা মৃদু আলোতে গোসল করার পরামর্শ দিচ্ছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা। ঘুমের আগে অন্ধকারে গোসলের প্রবণতাও জনপ্রিয় হচ্ছে অনেকের মাঝে। বলা হচ্ছে, এটি স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে ঘুমের মান উন্নত করতে জাদুর মতো কাজ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের জন্য শুধু পানির তাপমাত্রা বা প্রসাধনীই যথেষ্ট নয়, বরং আলোর তীব্রতাও একটি বড় ভূমিকা পালন করে। অন্ধকারে গোসল কীভাবে আপনার ঘুমকে গভীর করতে পারে, তার একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো।
দেহের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণে আলোর ভূমিকা অপরিসীম। সন্ধ্যার পর আলো যত কমে আসে, মস্তিষ্ক তত বেশি মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে। কিন্তু রাতে উজ্জ্বল আলো বা মোবাইল-ল্যাপটপের স্ক্রিন এই হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে ঘুমাতে দেরি হয় এবং ঘুমের গভীরতা কমে যায়। অন্ধকারে বা মৃদু আলোতে গোসল করলে শরীর দ্রুত শিথিল হওয়ার সংকেত পায়।
ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে এবং পরে তা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। তাপমাত্রার এই পরিবর্তন মস্তিষ্ককে বিশ্রামের সংকেত দেয়। এর সাথে যদি অন্ধকারের সমন্বয় ঘটে, তবে চোখের ওপর চাপ কমে এবং স্নায়ুতন্ত্র বাহ্যিক উত্তেজনা থেকে মুক্তি পায়। পানির ঝিরঝির শব্দ তখন ধ্যানের মতো কাজ করে, যা অনিদ্রা কাটাতে সহায়ক।
অন্ধকারে গোসল কোনো জাদুকরী ওষুধ নয়, তবে এটি লাইফস্টাইলের একটি কার্যকর অংশ হতে পারে। যাদের দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যা বা ইনসোমনিয়া রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি চমৎকার রিল্যাক্সেশন থেরাপি। এই অভ্যাসটি প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হলে মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে একে ঘুমের আগের প্রস্তুতি হিসেবে ধরে নেয়।
শান্তির ঘুমের জন্য একটি কার্যকর রুটিন তৈরি করবেন যেভাবে
১. ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে ঘরের উজ্জ্বল আলো কমিয়ে দিন এবং ফোন থেকে দূরে থাকুন।
২. হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। চাইলে সুগন্ধি হিসেবে ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
৩. গোসলের পর সরাসরি উজ্জ্বল আলো বা স্ক্রিনের সামনে যাবেন না।
৪. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর এবং ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন।
অন্ধকারে গোসল করার সময় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পুরোপুরি অন্ধকার অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক বা ভারসাম্যহীনতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য। তাই একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার না করে একটি ছোট ডিম লাইট বা নিরাপদ দূরত্বে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা ভালো।
অন্ধকারে গোসল শুধু একটি ট্রেন্ড বা ফ্যাশন নয়, বরং এর পেছনে জোরালো বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে। আধুনিক জীবনের মানসিক চাপ কমিয়ে গভীর ঘুমের দেশে পাড়ি জমাতে এই সাধারণ অভ্যাসটি আপনার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী হতে পারে।