তরমুজ থেকে বিষক্রিয়া? কিভাবে কমবে স্বাস্থ্যঝুঁকি?

তরমুজ থেকে বিষক্রিয়া? কিভাবে কমবে স্বাস্থ্যঝুঁকি?

ছবি: সংগৃহীত

গরমের দিনে তরমুজ যেন এক টুকরো স্বস্তি। শরীর ঠাণ্ডা করে, পিপাসা মেটায়, আবার পুষ্টিও দেয়। কিন্তু এই উপকারী ফলই কখনও কখনও অজান্তে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে বাজারে অনেকেই পুরো তরমুজ না কিনে কাটা অংশ কিনছেন।

বিক্রেতারা ফল কেটে ভিতরের লাল অংশ দেখিয়ে দিচ্ছেন। কারণ লাল রং মানেই সাধারণত মিষ্টি ও ভালো মানের ফলের ধারণা তৈরি করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসেই লুকিয়ে আছে বিরাট ঝুঁকি।

তরমুজ উপকারী হলেও ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এটি দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার উৎসে পরিণত হতে পারে।

ফলের ভেতরের পানি ও প্রাকৃতিক শর্করা ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়। আর গরমে সেই বৃদ্ধি আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ফলে অল্প অসাবধানতাতেই দেখা দিতে পারে পেটের সমস্যা।

চিকিৎসকদের মতে, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া কাটা তরমুজে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।

বাজার থেকে কাটা তরমুজ কিনলে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। কারণ সেখানে অপরিচ্ছন্ন ছুরি, হাত বা পরিবেশ থেকে সহজেই জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। এমনকি কাটা ফল প্লাস্টিকে মুড়িয়ে রাখলেও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ হয় না।

আবার অনেকেই তরমুজ না ধুয়ে কেটে ফেলেন। এতে বাইরের ধুলাবালি ভেতরে চলে যেতে পারে এবং সালমোনেলা, ই-কোলাই, লিস্টেরিওসিসের মতো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

কাটা তরমুজ দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দেওয়াও সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। গরমে এভাবে রাখা হলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্রুত বেড়ে গিয়ে খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

তাই বাজার থেকে পুরো তরমুজ কেনা, ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া, কেটে সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া এবং ফ্রিজে রাখতে হলে বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা—এসব অভ্যাসই কমাতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি।