সীমিত সক্ষমতায় চলছে ইস্টার্ন রিফাইনারি: মন্ত্রণালয়

সীমিত সক্ষমতায় চলছে ইস্টার্ন রিফাইনারি: মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ক্রুড অয়েল আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে সীমিত সক্ষমতায় বা ‘লো-ফিড’ অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি জোরদার করায় সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জ্বালানি বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইআরএল সাধারণত সৌদি আরব থেকে এরাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড আমদানি করে পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উৎপাদন সম্ভব হয়, যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। 

২০২৪–২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মোট চাহিদা ছিল ৪৭ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইআরএল সরবরাহ করেছে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ মেট্রিক টন, যা মোট চাহিদার প্রায় ১৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে পেট্রোলের মোট চাহিদা ছিল ৪ লাখ ৮৯ হাজার মেট্রিক টন, যার মধ্যে ৫৮ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন সরবরাহ করেছে ইআরএল, অর্থাৎ প্রায় ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এছাড়া ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের উল্লেখযোগ্য অংশও এই পরিশোধনাগার থেকে উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। 

জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মার্চ ও এপ্রিল মাসে নির্ধারিত মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হয়েছে।

এর মধ্যে মার্চ মাসের নির্ধারিত ১ লাখ মেট্রিক টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড নিরাপত্তাজনিত কারণে রাস্তানুরা বন্দরে আটকে আছে। একই মাসে নির্ধারিত আরেকটি ১ লাখ মেট্রিক টন মারবান ক্রুড সরবরাহে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করা হয়েছে।

এপ্রিল মাসের জন্য নির্ধারিত আরও ১ লাখ মেট্রিক টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড বিকল্প রুট ব্যবহার করে ২০ এপ্রিল লোডিং শেষে আগামী ২ থেকে ৩ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মে মাসে অতিরিক্ত ১ লাখ মেট্রিক টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড সরবরাহের জন্য সৌদি আরামকোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে ইআরএলের চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও বাকি দুটি ইউনিট চালু রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোয় পরিশোধন কার্যক্রম সীমিত সক্ষমতায় চালানো হচ্ছে।

তবে বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় দেশের সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়।