এনবিএফআই খাতে সমান সুরক্ষা ও আমানত ফেরতের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে আমানতকারীদের জন্য সমান সুরক্ষা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত অর্থ ফেরতের দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এনবিএফআইএস’র ৬টি আমানতকারীর পুনরুদ্ধার বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স (ফেমা) সভাপতি ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) সাবেক চেয়ারম্যান মুনিরা খান এসব দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘উদ্ধার বা আমানত সুরক্ষা কাঠামো এনবিএফআই খাতেও প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ কার্যকর করতে হবে, যাতে আমানতকারীদের মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে। তার ভাষায়, আমানতকারী মানেই আমানতকারী- সে ব্যাংকেই হোক বা এনবিএফআইতে। ফলে উভয় খাতেই সমান সুরক্ষা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং সময়োপযোগী অর্থ ফেরত নিশ্চিত করা জরুরি।'
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতের জন্য প্রণীত যে কোনো আইন, বিধিমালা বা সংস্কার বিলম্ব না করে এনবিএফআই খাতেও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি লিকুইডেশন ও পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুনিরা খান বলেন, ‘দীর্ঘ সাত বছর ধরে এনবিএফআই খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। মুনাফার আশায় সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত অর্থ জমা রাখলেও এখন তারা মূলধন তো দূরের কথা, ন্যূনতম অর্থও তুলতে পারছেন না। এতে হাজারো পরিবার মানবিক সংকটে পড়েছে।’
তিনি জানান, ছয়টি এনবিএফআই আমানতকারীদের জোটের পক্ষে দুই হাজারের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে তাদের দাবি তুলে ধরছেন। প্রতিটি পরিবারে একাধিক সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাস্তবে ক্ষতির পরিধি আরও অনেক বড়। বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে, যাতে দ্রুত অর্থ পুনরুদ্ধারের পথ বের করা যায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- আমানতকারী প্রতিনিধি মিসেস শায়লা বানু, ইসমাইলি কোঅপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান জালালউদ্দিন, সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজিউল হাসান, ফেমা সভাপতি মুনিরা খান, খালেদ মনসুর ট্রাস্টের প্রতিনিধি আজিজ, আমানতকারী আক্তারি বেগম, নাশিদ কামাল, মোস্তফা আব্বাসী ও আসমা আব্বাসীসহ ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের প্রতিনিধিরা।