৭ গোলের থ্রিলারে রিয়ালকে বিদায় করে সেমিতে বায়ার্ন

৭ গোলের থ্রিলারে রিয়ালকে বিদায় করে সেমিতে বায়ার্ন

সংগৃহীত ছবি

‘থ্রিলার’ কথাটাকে ক্লিশেই শোনাতে পারে, বিশেষণটা কমও হয়ে যেতে পারে। বায়ার্ন মিউনিখ-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে যা হলো, তার বিশেষণে শুধু ‘থ্রিলার’ বললে খানিকটা আদতেও কমই হয়ে যায়। গোল হয়েছে, গোলের জবাব এসেছে, নাটকীয়তাও কি কম হয়েছে? এমন সব ঘটনায় ঠাসা ম্যাচে শেষ হাসিটা বায়ার্ন হেসেছে। পুরো ম্যাচে প্রথমবার ব্যাভারিয়ানরা লিড নিয়েছে ম্যাচের শেষ কিকে এসে, আর তাতেই ৪-৩ গোলের জয় আর সামগ্রিকভাবে ৬-৪ ব্যবধান নিয়ে তারা চলে গেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ চারে।

নাটকীয়তার শুরুটা করেছিলেন মানুয়েল নয়্যার। আলিয়াঞ্জ আরেনায় দর্শকরা ধাতস্থ হয়ে বসার আগেই করে বসেন মারাত্মক এক ভুল। বল তুলে দেন প্রতিপক্ষের পায়ে। প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে আর্দা গুলেরের শট গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে। ম্যাচের বয়স তখন ৩৬ সেকেন্ড, ম্যাচে এগিয়ে যায় রিয়াল, দুই লেগের লড়াইয়ে তখন ২-২ সমতা।

বায়ার্নও জবাব দিয়েছে খানিক পরেই। কর্নার থেকে ইয়োশুয়া কিমিখের দারুণ ডেলিভারিতে মাথা ছুঁইয়ে বায়ার্নকে লড়াইয়ে এগিয়ে দেন আলেক্সান্দার পাভলোভিচ। 

শুরুর ওই গোল বাদ দিলে প্রথম থেকে বায়ার্ন নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছিল রিয়ালের। শুরুর অন্তত ২০ মিনিট ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর এমবাপে পর্যন্ত বলই পাঠাতে পারেনি মাদ্রিদ মিডফিল্ড।

তবে খানিকটা সময় গড়াতে রিয়ালও পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পায়। ৩০ মিনিটে গুলেরের দ্বিতীয় গোল এল তারই ধারাবাহিকতায়। বক্সের বাইরে থেকে তার করা দারুণ এক ফ্রি কিক নয়্যার পড়তেই পারেননি ঠিকঠাক। গুলেরের দ্বিতীয় গোলে রিয়াল ম্যাচে এগিয়ে যায় আবারও।

৩৯ মিনিটে আবারও জবাব দেয় বায়ার্ন। বক্সের জটলার ভেতর থেকে ডায়ট উপামেকানোর বাড়ানো বলে দারুণ এক শট নেন কেইন, লড়াইয়ে সমতা আর সামগ্রিকভাবে বায়ার্ন এগিয়ে যায় আবারও।

তবে ৪৫ মিনিটে স্বাগতিক রক্ষণকে ছত্রখান করে রিয়াল পেয়ে যায় তাদের তৃতীয় গোল। বাম পাশ থেকে আক্রমণে উঠে এসে ভিনি শেষ মুহূর্তে বল ছাড়েন এমবাপ্পেকে। লেট রান নিয়ে বক্সে আসা তাকে পাহাড়ায় রাখেনি কেউই, সহজেই বল জালে জড়ান তিনি।

৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে যখন বিরতিতে যাচ্ছিল রিয়াল, তখন আরও একটা কামব্যাকের স্বপ্ন তখন পেয়ে বসেছে তাদের। বায়ার্নকে তাড়া করে ফিরছিল শেষ ১২ বছরের সিন্দাবাদের ভূত।

সেটা বুঝি হয়েই যেত। যদি না এমবাপ্পের ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের দ্বিতীয় গোলের কথা মনে করিয়ে দেওয়া শটটা নয়্যার সেভ না করতেন, যদি না এমবাপ্পে নিজে তার এই ম্যাচের গোলের মতো অবিকল সুযোগটায় স্বার্থপরের মতো আচরণ করতেন। সেসবের কারণেই ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ঝুলে ছিল।

তবে মোড় ঘুরে যায় ৮৭ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা মাঠ ছাড়লে। পুরো ম্যাচে একবারও লিড নিতে না পারা বায়ার্ন সুযোগটা লুফে নেয় দুই হাতে।

শুরু থেকে ৮৯ মিনিট পর্যন্ত নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন লুইস দিয়াজ, বাম পাশ দিয়ে একের পর এক আক্রমণ ভেস্তে যাচ্ছিল তাতে। তবে জ্বলে ওঠার জন্য মোক্ষম সময়টাই শেষমেশ বেছে নেন তিনি। ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া শট আন্দ্রেই লুনিনের হাতের নাগালের বাইরে দিয়ে গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে। ম্যাচে ফেরে সমতা, লড়াইয়ে বায়ার্ন এগিয়ে যায় ৫-৪ ব্যবধানে।

তবে রিয়ালের আরও এক গোল, আর খেলাটা যোগ করা সময়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না আদৌ। সে সম্ভাবনাটা মাটিচাপা দেন মিকেল ওলিসে। শেষ মুহূর্তে প্রতি আক্রমণে উঠে এসে তিনি বাঁকানো এক শটে বল জড়ান জালে। বায়ার্ন ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিড নেয় ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, রিয়ালের কফিনেও শেষ পেরেকটা ঠোকা হয়ে যায় তখনই। 

২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের পর থেকে বায়ার্ন রিয়ালের মুখোমুখি হয়েছে ৮ বার, একটি বারের জন্যও রিয়ালকে হারাতে পারেনি। সে খরাটা আগের লেগেই ঘুচিয়েছিল বায়ার্ন। তবে দ্বিতীয় লেগে কাজটা বাকি ছিল, তাও সারা হয়ে গেল তাদের। এক যুগ পর রিয়াল জুজু কাটিয়ে এবার শেষ চারে পা রাখল বায়ার্ন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পিএসজি।

ওদিকে আর্সেনাল গোলশূন্য ড্র করেছে স্পোর্টিং লিসবনের বিপক্ষে। আগের লেগের ১-০ গোলের জয় তাদেরকে তুলে দিয়েছে সেমিফাইনালে। শেষ চারে তারা খেলবে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে।