অস্থায়ী ১৬টি পশুর হাট বসাতে চায় চসিক

অস্থায়ী ১৬টি পশুর হাট বসাতে চায় চসিক

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরে অস্থায়ীভাবে ১৬টি পশুর হাট বসাতে চায়। এসব হাট স্থাপনের জন্য চসিক চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছে। গত বছর নগরে অস্থায়ী পশুর হাট ছিল ১০টি। তাছাড়া, এ বছর চসিকের সবচেয়ে বড় হাট সাগরিকা পশুর বাজারের প্রত্যাশিত দর মিলেছে।

আগামী ২৭ বা ২৮ মে চাঁদ দেখার সাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের সবচেয়ে বড় পশুর হাট সাগরিকা পশুর হাট। প্রত্যাশিত দর না পাওয়ায় গত বাংলা সনে এই হাট ইজারা দিতে পারেনি চসিক। এবারও একই অবস্থা হওয়ার উপক্রম হয়। প্রথম দুই দফায় কোনো দরপত্র ফরম জমা হয়নি। তৃতীয় দফায় তিনটি ফরম জমা পড়লেও প্রত্যাশিত দর পাওয়া না গেলেও চতুর্থ দফায় কাঙ্খিত দর পাওয়া যায়। এবার এই হাটের ইজারা ন্যূনতম দর ছিল ৮ কোটি ২ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত দর পাওয়া গেছে ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। ৬টি ফরম বিক্রি হলেও জমা পড়ে ৪টি। গত বৃহস্পতিবার দরপত্র বক্স উন্মুক্ত করা হয়। এখন দরপত্র কমিটির সভায় ইজারাদারকে হাট বুঝিয়ে দেওয়ার অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিটির সভার সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে এবার সর্বোচ্চ দর পাওয়া গেলেও তা তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। গত বছর ইজারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ১৪৩১ বাংলা সনে হাট থেকে চসিকের আয় হয়েছিল ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা ও ১৪৩০ বাংলা সনে ইজারা দেওয়া হয়েছিল ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, সাগরিকা পশুর হাটের জন্য প্রত্যাশিত দর পাওয়া যাচ্ছিল না। এ জন্য বারবার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়েছে। এখন চসিকের দরের চেয়ে বেশি দর দিয়েছেন এক ইজারাদার। তাঁকে হাট ইজারা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ঈদুল আজহায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নগর পুলিশের অনাপত্তি প্রয়োজন। অনাপত্তি দিলে জেলা প্রশাসন হাট বসানোর অনুমতি দেবে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পর হাটগুলো ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।

চসিকের ভূসম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সিটি করপোরেশনের পশুর হাট নিয়ে ইজারাদারদের আগ্রহ কমেছে। এক সময় শুধু পশুর হাটকেন্দ্রিক বেচাবিক্রি ছিল। এখন বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার সময় মানুষ বিভিন্ন খামার থেকে সরাসরি কোরবানির পশু কিনে নেন। আবার এ সময় নগরের অলিগলি ও আশপাশের এলাকায় অনেক অবৈধ হাট বসে। ফলে পশুর হাটে আগের মতো লোকজন আসেন না। 
চসিকের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট হলো- সাগরিকা, বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। আর অস্থায়ী বাজারগুলো হলো- বাকলিয়ার নূর নগর হাউজিংয়ে কর্ণফুলী পশুর বাজার, পতেঙ্গায় টি কে গ্রুপের খালি মাঠ, পতেঙ্গার পূর্ব হোসেন আহম্মদপাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ ও সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, বড়পোলের মহেশ খালের দুই পাড়ের খালি জায়গা, ওয়াজেদিয়া মোড়, আউটার রিং রোডে সিডিএ বালুর মাঠ, মোহরার জানালী হাট রেলস্টেশনের পাশে খালি জায়গা, মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দ বাজারসংলগ্ন খালি জায়গা, সল্টগোলা রেল ক্রসিং, চৌধুরী হাট, হালিশহর পুলিশ লাইনের সামনে সড়কের পাশে, মাদারবাড়ি পোর্ট সিটি হাউজিংয়ের খালি জায়গা, পতেঙ্গা স্টিল মিল বাজার, উত্তর হালিশহর গলিচিপা পাড়া বারুনিঘাটা মাঠ এবং অলংকার গরুর মাঠ।