ঢাবি শিক্ষার্থী মিমোর মৃত্যুর বিচার দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনায় বিচার এবং বিভাগে বিরাজমান নিপীড়ন বন্ধসহ সাত দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তারা এ ঘোষণা দেন।
মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সদস্যরা এবং থিয়েটার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
মানববন্ধনে বিভাগের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার বলেন, ‘বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও মানসিকভাবে নিপীড়ন করার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, মিমোর অকাল মৃত্যু তারই এক মর্মান্তিক পরিণতি।’
এ সময় তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে-অনুষদে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেল থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক অভিযোগ দাখিল করার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে দেখা যায়, এই সেলগুলো কোনো কাজ করে না। যদি কোনো ফলোআপ না থাকে, তাহলে এই ধরনের সেলের কোনো দরকার নাই।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্র প্রতিনিধিরা যেন এই সেলে থাকতে পারে এবং যখনই কোনো অভিযোগ আসে বা তদন্ত হয়, তার সুষ্ঠু বিচার শিক্ষার্থীরা দেখতে পারে। আমাদের আপু যে জীবন দিয়ে একটা সিস্টেমের দিকে আঙুল তুলে দিয়ে গেছে, তার সুষ্ঠু বিচার করা হয় এবং যে অপরাধীকে সুইসাইড নোটের মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছে, তার শাস্তি দেখতে চাই এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’
বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি আমাদেরও দাবি। এই ঘটনায় বিভাগ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা তা নিয়েছি। বিষয়টি ভিসি ও প্রো-ভিসিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সকল দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি।’
মানববন্ধনে মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের রাফিউল রকি শিক্ষার্থীদের পক্ষে কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— ১. অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী এবং উম্মে হানির বিষয়ে বিভাগকে দ্রুত স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত থাকবে।
২. নৈতিক স্খলন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে স্থায়ীভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, ফলাফল ও চাকরির প্রলোভন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অনতিবিলম্বে চাকরিচ্যুত করার বিধান সংযুক্ত করতে হবে।
৪. মিমোর পরিবারকে পরিচালনার দায়িত্বে রেখে আইনি প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ আর্থিক ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গ্রহণ করতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহারের কোনো চাপ যেন না আসে তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. তদন্ত সাপেক্ষে উম্মে হানিসহ দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৬. একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উভয়পক্ষ থেকে অযাচিত যোগাযোগ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ এবং শিক্ষক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।
মানববন্ধন শেষে কলা ভবনের গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রথমে উপাচার্য ও পরে প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি জমা দিতে যান শিক্ষার্থীরা।