নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলায় গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলায় গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

ফাইল ছবি

 

নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া হোসেন অদিতা হত্যা মামলায় তার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম ওরফে রনিকে (৩৩) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী জানান, আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও নিহতের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার একটি বাসা থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

নিহত অদিতা লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে।

তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

অভিযোগে বলা হয়, অদিতা গৃহশিক্ষকের কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন রনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে তিনি বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামির শরীরে আঁচড়ের দাগ ও পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়।

তদন্তে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়।

মামলায় বাদীপক্ষের ৪১ জন ও আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।

উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জানান, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।