বরিশালে পানি সরবরাহের সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু

বরিশালে পানি সরবরাহের সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু

সংগৃহীত ছবি

বরিশাল নগরীতে কীর্তনখোলা নদীর পানি বিশুদ্ধ করে সরবরাহের জন্য নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে। বুধবার নগরীর রূপাতলীতে অবস্থিত ১৬ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন প্লান্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

এখনো নগরীর পলাশপুরে নির্মিত অপর সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি সচল করা হয়নি। তবে বেলতলা এলাকার প্লান্টটি শিগগিরই চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, অতিরিক্ত গভীর নলকূপ ব্যবহারের কারণে বরিশালের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা নগরীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, এই প্লান্ট চালুর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু হলে নগরীর মোট পানির চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে আরও দুটি প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, বরিশাল নগরীতে দৈনিক প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। রূপাতলী প্লান্ট থেকে প্রতিদিন ১ কোটি ৭ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। এতে সিটি কর্পোরেশনের ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ১০টি স্টেশন বন্ধ করা সম্ভব হবে, ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ২০১২ ও ২০১৩ সালে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বেলতলা ও রূপাতলী এলাকায় দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করা হয়, যার কাজ ২০১৬ সালে শেষ হয়। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি, পুরনো অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন প্লান্টগুলো অচল ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, পাইপলাইন সংস্কার, ফিল্টার ইউনিট উন্নয়ন ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে রূপাতলী প্লান্টটি পুনরায় সচল করা হয়েছে। এই প্লান্টে কোয়াগুলেশন, ফ্লকুলেশন, স্থিতিকরণ, ফিল্টারিং ও জীবাণুনাশ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি পরিশোধন করা হয়।