শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

সংগৃহীত ছবি

আজ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্ম মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর জন্ম, বোধিজ্ঞান লাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই তিন স্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমাই বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।

গৌতম বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধনে সহাবস্থান।

তিনি বলেছেন, বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা, হিংসা দিয়ে হিংসা কখনো প্রশমিত হয় না; অহিংসা ও অবৈরিতার মাধ্যমেই তা প্রশমিত করতে হয়। ‘জগতের সব প্রাণী সুখী হোক’—এই বাণীর মধ্য দিয়ে তিনি মানবতার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা অহিংসা, শান্তি, সাম্য ও সহানুভূতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

জানা গেছে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা দিনভর নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দিনটি উদযাপন করেন।

বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন ও বাসাবো সবুজবাগ বৌদ্ধ বিহার দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধপূজা, মহাসংঘদান ও আলোচনাসভা। এ ছাড়া দেশজুড়ে বৌদ্ধবিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা, সমবেত প্রার্থনা ও ভিক্ষুসংঘের প্রাতরাশসহ নানা আয়োজন থাকবে।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আজ দেশে সরকারি ছুটি।

দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের ও বিশ্ব বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁরা কামনা করেন, বুদ্ধপূর্ণিমা বাংলাদেশসহ বিশ্বের মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে আসছেন। হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে বাংলাদেশ সরকার একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছেন। তিনি বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধ আজীবন মানুষের কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অহিংসা, সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করেছেন। বর্তমান বিশ্বে সংঘাত, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে তাঁর মানবিকতা ও শান্তির বাণী গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হতে পারে।