স্নাতক পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে এখন থেকে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা অবৈতনিক বা ফ্রি করা হবে। সেই সঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
নারীদের অবজ্ঞা করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আমরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ফ্রি করেছিলাম। এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা ফ্রি করা হবে। তারা যেন উচ্চশিক্ষায় আরও এগিয়ে আসতে পারে, সে জন্য ভালো ফল করলে উপবৃত্তির ব্যবস্থাও আমরা নিশ্চিত করব।’
নারী ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এরইমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করেন এত টাকা কোথা থেকে আসবে। এটিকে খরচ হিসেবে না দেখে বিনিয়োগ (ইনভেস্টমেন্ট) হিসেবে দেখতে হবে। এই টাকা গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী করবে।’
শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক পরিবর্তনের বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আগামী জুলাই মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা দেবে সরকার। আমি চাই শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও মানসম্মত পরিবেশে পড়াশোনা করুক।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত পরিবেশে এই সংসদ পরিচালিত হয়েছে। আমরা দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সংসদ বাংলাদেশের মানুষের জন্য।’
১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের শহীদ এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল মুক্তভাবে কথা বলা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই হবে সরকারের বড় দায়িত্ব।
জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাব মেনে যৌথ কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি জবাবদিহিমূলক সরকার এবং জনগণের কষ্ট লাঘবে যেকোনো গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণে সরকার বদ্ধপরিকর।